ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ১৫ জন যুবকের কাছ থেকে প্রায় ৩২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার মো. সিদ্দিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জনপ্রতি ২ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও কাউকে বিদেশে পাঠানো হয়নি। উল্টো চারজনকে যে ভিসা দেওয়া হয়েছিল, সরকারি যাচাইয়ে সেগুলোও জাল বলে শনাক্ত হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা নেওয়ার সময় দ্রুততম সময়ে সার্বিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে নানা অজুহাতে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে টাকা ফেরতের চাপ দিলে সিদ্দিকুর রহমান লিখিত অঙ্গীকার করেন। তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, টাকা ফেরতের লিখিত অঙ্গীকার, ব্যাংকের চেক এবং তাঁর বক্তব্যের একাধিক ভিডিও ফুটেজ রয়েছে ভুক্তভোগীদের কাছে।
১৫ জনের কাছ থেকে ৩২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সার্বিয়ায় চাকরির আশায় ১৫ জনের কাছ থেকে মোট প্রায় ৩২ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। কেউ নগদে, আবার কেউ বিভিন্ন কিস্তিতে ব্যাংক ও মাধ্যমে টাকা দিয়েছেন। বিদেশে গিয়ে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় অনেকে জমি বিক্রি, মাছের ঘের বন্ধক এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও ব্যক্তির কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে এসব টাকা জোগাড় করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও বিদেশ যেতে না পেরে এখন ঋণের কিস্তির চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁরা।
এক সপ্তাহে ভিসা, নয়তো টাকা ফেরতের অঙ্গীকার দীর্ঘদিনেও ভিসা না পাওয়ায় টাকা ফেরতের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে সিদ্দিকুর রহমান ১০০ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পে (নম্বর: গগ ৬৯৯০৮৬২, গগ ৬৯৯০৮৬৩ ও গগ ৬৯৯০৮৬৪) লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন। ওই স্ট্যাম্পে তিনি নিজে স্বাক্ষর করে এক সপ্তাহের মধ্যে সার্বিয়ার ভিসা দেওয়ার কথা জানান এবং ভিসা দিতে ব্যর্থ হলে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ ছাড়া টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা হিসেবে অগ্রণী ব্যাংক বনানী করপোরেট শাখার একটি তারিখবিহীন চেক দেওয়া হয় (হিসাব নম্বর: 0200000634953, চেক নম্বর: CDA 4134132 ও CDA 4134154)।
চারজনের ভিসা সরকারি যাচাইয়ে জাল শনাক্ত পরবর্তীতে চারজনকে সার্বিয়ার ভিসা দেওয়া হলেও সরকারিভাবে যাচাইকালে সেগুলো ভুয়া ও জাল বলে শনাক্ত হয়। ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যমতে, জাল ভিসা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মো. আইউব আলী শেখ (ভিসা নং A0894749), মো. ফারুক হোসেন (ভিসা নং A0894762), মো. সোহাগ সরদার (ভিসা নং A0894762) এবং মো. ইউনুচ শেখ (ভিসা নং A0894764)।
টাকা ফেরত চাইলে হুমকির অভিযোগ ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, জাল ভিসার বিষয়টি ধরা পড়ার পর টাকা ফেরত চাইলে তাঁদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও জীবননাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা তাঁদের হাতে থাকা স্ট্যাম্প, ব্যাংক চেক, ভিডিও ফুটেজ ও ভিসা যাচাইসংক্রান্ত নথিপত্রসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তাঁরা দ্রুত আত্মসাৎকৃত প্রায় ৩২ লাখ টাকা উদ্ধার এবং এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. সিদ্দিকুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মো. দবির তালুকদারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁকেও পাওয়া যায়নি।
kalprakash.com/IM