যশোর সদর উপজেলার কুয়াদা সিরাজসিঙ্গা (বোসপাড়া) গ্রামে বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথায় শীলা রানী (৩০) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে ঘরের আড়ার সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ—অমানুষিক নির্যাতনের পর তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে।
নিহত শীলা রানী কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাল্লুকঘর (কায়েতপাড়া) গ্রামের মৃত শংকর বোসের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পূর্বে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গোণালী বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে শীলার প্রথম বিয়ে হয়েছিল। সেখানে তাঁর অতনু (৯) নামের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। প্রথম স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি সংসার ছেড়ে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। পরবর্তীতে গত ১৫ জুলাই যশোর সদরের কুয়াদা সিরাজসিঙ্গা গ্রামের মৃত সুবল বোসের ছেলে সুজয় কুমার বোসের (৩৫) সঙ্গে পারিবারিকভাবে শীলার দ্বিতীয় বিয়ে হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর ৯ বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে সংসারে আসার পর থেকেই কারণ-অকারণে শাশুড়ি রত্না রানী ও স্বামী সুজয় তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাত। বিয়ের পর শীলার সঞ্চিত হিসাব থেকে সুজয় কৌশলে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন এবং পরবর্তীতে আরও টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। সম্প্রতি শিশু অতনুর (তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র) জন্মনিবন্ধনের জন্য সুজয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি চাইলে পরিবারটিতে বিরোধ চরমে পৌঁছায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে শীলা গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন দাবি করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরদিন সোমবার হাসপাতালের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
নিহত শীলার সৎ মা শংকরী নাগ অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে অমানুষিক নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন ছিল। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুজয়ের প্রথম স্ত্রীও একইভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা গিয়েছিলেন। এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং শিশু সন্তানের নামে এক বিঘা জমি লিখে দেওয়ার আশ্বাসে স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য সালিশে আপস-মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে কালারহাট মহাশ্মশানে মরদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত স্বামী সুজয় কুমার বোসের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ‘দুই মিনিট পর কথা বলছি’ জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
kalprakash.com/IM