ভারতের লেগ স্পিনার কার্ন শর্মা আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ৩৮ বছর বয়সী রেলওয়েজের এই বোলার কানপুর সুপারস্টারস ও মিরাট মাভেরিকসের মধ্যকার ইউপি টি-টোয়েন্টি লিগের একটি ম্যাচের পরপরই এই ঘোষণা দেন। এই ক্রিকেটার জানান, ২৫ আগস্ট লখনউ পর্বে সুপারস্টারসের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলবেন তিনি।
কার্নের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ছিল একটি টেস্ট, দুটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানার সময় তার ঝুলিতে রয়েছে চারটি আইপিএল শিরোপা। তিনি যেসব ক্রিকেট সংস্থার হয়ে খেলেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।
এই লেগ স্পিনার বলেন, আমি এখন অবসর নিতে চাই। আমার পরিবার, বিসিসিআই, রেলওয়েজ, ইউপিসিএ, অন্ধ্র, বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এবং এই দীর্ঘ যাত্রায় যারা আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। এরপর আমি কোচিং এবং ক্রিকেট খেলা-সংক্রান্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকব।
কার্নের প্রথম শ্রেণি, লিস্ট এ এবং টি-টোয়েন্টি—সব ধরনের ক্যারিয়ারই ২০০৭-০৮ মৌসুমে শুরু হয়। রঞ্জি ট্রফিতে নিজের অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি দ্রুতই নিজেকে একজন প্রকৃত অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০১২-১৩ মৌসুমটি ছিল তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানোর মতো একটি সময়। রঞ্জি ট্রফির তিনটি ম্যাচে ১৯.০৪ গড়ে ২১টি উইকেট শিকার করে তিনি বিসিসিআইয়ের ‘সেরা অনূর্ধ্ব-২৫ ক্রিকেটার’-এর পুরস্কার জেতেন এবং জাতীয় নির্বাচকদের নজরে আসেন।
২০১৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে যাওয়া ভারতের সীমিত ওভারের দলে তিনি জায়গা করে নেন। সেই সফরে তিনি একটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন এবং জো রুটকে আউট করে সফরের একমাত্র উইকেটটি নিজের ঝুলিতে ভরেন। এরপর শ্রীলঙ্কা সিরিজের ওয়ানডে দলে ডাক পান কার্ন। রোহিত শর্মা যে ম্যাচে ২৬৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন, সেই ম্যাচেই এই ফরম্যাটে তার অভিষেক হয়। ওই সিরিজে তিনি আরও একটি ওয়ানডে খেলেন, তবে দুটি ম্যাচ মিলিয়ে কোনো উইকেট পাননি।
২০১৪ সালের শেষের দিকে অ্যাডিলেডে কার্ন তার একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি খেলেন, যেখানে তিনি দুই ইনিংসেই দুটি করে উইকেট শিকার করেছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেটিই ছিল তার শেষ উপস্থিতি। পরের বছর জিম্বাবুয়ে সফরের সীমিত ওভারের দলের জন্য তাকে নির্বাচিত করা হলেও চোটের কারণে তিনি আর খেলতে পারেননি।
সাতানব্বইটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে কর্ণ ২৭.৬০ গড়ে ২৭০টি উইকেট নিয়েছেন, যার মধ্যে ১৪ বার ইনিংসে পাঁচ বা ততোধিক উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে। ব্যাটিংয়ে তিনি ১৩৮টি ইনিংসে ২ হাজার ৮৬৬ রান করেছেন। এর মধ্যে দুটি সেঞ্চুরি ও ১৭টি হাফ সেঞ্চুরি অন্তর্ভুক্ত। ১২৩টি লিস্ট এ ম্যাচে তিনি ১৫৩টি উইকেট (তিনবার পাঁচ উইকেট শিকারসহ) এবং ব্যাট হাতে একটি সেঞ্চুরি ও ছয়টি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। ১৯১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি ১৬৮টি উইকেট নিয়েছেন, যার মধ্যে ৯০টি আইপিএল ম্যাচে এসেছে ৮৩টি উইকেট।
২০১৪ সালের নিলামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ তাকে ৩ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে দলে নেয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, ২০১৭ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং ২০১৮ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএল শিরোপা জেতেন তিনি।
সেই সময়ে রেলওয়েজ দলে ফিরে আসার আগে তিনি ২০১৭-১৮ মৌসুমে বিদর্ভ এবং ২০১৮-১৯ মৌসুমে অন্ধ্র দলের হয়েও খেলেছিলেন। আইপিএলে তার শেষ ম্যাচটি ছিল ২০২৫ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে এবং তিনি ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত রেলওয়েজ দলের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন।
kalprakash.com/IM