রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ | ৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৯ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | দুপুর ১২:৪৯:২২

চিতলমারীতে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ‘ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার অব এমপাওয়ারমেন্ট’ প্রকল্পের সভা

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৮
শেয়ার: mail
চিতলমারীতে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ‘ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার অব এমপাওয়ারমেন্ট’ প্রকল্পের সভা

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের চিতলমারীতে দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট, জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সমস্যা নিরসনে ‘ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার অব এমপাওয়ারমেন্ট’ শীর্ষক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে চিতলমারী উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাগেরহাট-১ আসনে বিএনপির নেতা কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলের উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সভায় বিভিন্ন এলাকায় সুপেয় পানির সংকট, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, গভীর নলকূপ স্থাপন, খাল-নদী পুনঃখনন ও পরিচ্ছন্নতা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা নিজ নিজ এলাকার পানির সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

চিতলমারী উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আহসান হাবিব ঠান্ডু বলেন, সুপেয় পানির সংকটের কারণে এলাকায় পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পর্যাপ্ত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নেই। তিনি দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানান। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি বাড়িতে ট্যাংক সরবরাহের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু বলেন, চিতলমারীতে সুপেয় পানির সংকটের পাশাপাশি ড্রেনেজ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থারও ঘাটতি রয়েছে। বড় বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তিনি খাল-নদী ও জলাশয় পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পরিবেশদূষণ রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন।

উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, অতিরিক্ত লবণাক্ত পানি পান করায় মানুষের উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি ও চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। গভীর নলকূপ স্থাপন সম্ভব না হলে মধুমতী নদীর পানি শোধন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার প্রস্তাব দেন তিনি।

সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, খাল ও জলাশয় দখলমুক্ত করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আলোচনা সভার প্রধান উদ্যোক্তা কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘চিতলমারীবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ করা আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার। মধুমতী নদীর পানি শোধন করে সরবরাহসহ গভীর নলকূপ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য স্বল্প সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের মাঝে পানির ট্যাংক বিতরণের পরিকল্পনা নিয়ে আমরা কাজ করছি। সবার সহযোগিতা পেলে দ্রুততম সময়ে এ সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব হবে।’

প্রকল্প পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তাবনাগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্য সব সমাধান যাচাই করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

এ সময় বাগেরহাট জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক এবং চিতলমারী উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী শেখ আজমল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

চিতলমারীতে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ‘ওয়াটার অ্যান্ড পাওয়ার অব এমপাওয়ারমেন্ট’ প্রকল্পের সভা

বিস্তারিত কমেন্টে