শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ | ৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | ভোর ৫:৫৫:০৪

দিনে নামবে রাতের আঁধার: আসছে শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৮
শেয়ার: mail
দিনে নামবে রাতের আঁধার: আসছে শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

ধরুন, অন্যান্য দিনের মতোই আপনি অফিসের কাজে ব্যস্ত কিংবা ঘরের কোনো কাজ করছেন; কিংবা বাসে-গাড়িতে করে কোথাও যাচ্ছেন। রৌদ্রোজ্জ্বল একটি দিন, নতুন কিছু নয়। কিন্তু যদি এমন হয়—দিনের বেলা হঠাৎ করেই আকাশের আলো ম্লান হয়ে গেল, সূর্যের উজ্জ্বলতা হারিয়ে চারদিকে নেমে এলো রাতের মতো অন্ধকার, আবার কয়েক মিনিট পরই ফিরে এলো আলো!

অনেকেই ভাবতে পারেন স্বপ্ন দেখছেন, চোখের ভুল কিংবা সিনেমায় দেখা কোনো মহাকাশযান বা রহস্যময় ঘটনা ঘটছে। তবে এমনই এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পৃথিবী। ২০২৭ সালের আগস্টে ঘটতে যাওয়া পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় কোনো কোনো অঞ্চল প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড দিনের আলো থেকে বঞ্চিত থাকবে।

২০২৭ সালের ২ আগস্ট ঘটবে এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। মহাকাশবিষয়ক তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট স্পেস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ থেকে ২১১৪ সালের মধ্যে স্থলভাগ থেকে দৃশ্যমান পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে দীর্ঘ। ফলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি মহাকাশপ্রেমীদের কাছেও দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

কীভাবে তৈরি হবে দিনের বেলা রাতের অন্ধকার? সূর্যগ্রহণ মূলত মহাকাশে ঘটে যাওয়া একটি নিখুঁত অবস্থানগত ঘটনা। চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার সময় কোনো এক মুহূর্তে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে। তখন চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ে। চাঁদ যদি সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে, তখন তৈরি হয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।

এ সময় সূর্যের উজ্জ্বল চাকতি পুরোপুরি আড়াল হয়ে যায়। পৃথিবীর যে সরু অঞ্চলের ওপর চাঁদের ঘন ছায়া পড়ে, সেখানে অবস্থানরত মানুষ সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান। এই পর্যায়কেই বলা হয় টোটালিটি। ২০২৭ সালের গ্রহণের সময় টোটালিটির পথ ধীরে ধীরে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। ফলে কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়ে চারপাশে সন্ধ্যা বা রাতের মতো পরিবেশ তৈরি হবে।

কোথা থেকে দেখা যাবে? এই সূর্যগ্রহণের পূর্ণ পর্যায় দেখা যাবে ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি অঞ্চলে। মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিসর, সুদান, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও সোমালিয়া—এসব দেশের বিভিন্ন অংশ গ্রহণের পথের মধ্যে পড়বে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ কোটি ৯০ লাখ মানুষ এমন অঞ্চলে অবস্থান করবেন, যেখান থেকে এই বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সরাসরি দেখা সম্ভব হবে। তবে গ্রহণের পুরো সময় একই জায়গায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড অন্ধকার থাকবে বিষয়টি এমন নয়। সর্বোচ্চ টোটালিটি নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে দেখা যাবে; গ্রহণের পথের অন্য অংশে সময় কিছুটা কম হবে।

কেন এত দীর্ঘ হবে এই গ্রহণ? সূর্যগ্রহণের স্থায়িত্ব সব সময় এক রকম হয় না। কোনো কোনো গ্রহণের পূর্ণগ্রাস পর্যায় কয়েক সেকেন্ডের মতো সংক্ষিপ্ত হতে পারে, আবার বিশেষ অবস্থায় তা কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এর পেছনে রয়েছে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের পারস্পরিক দূরত্ব এবং তাদের কক্ষপথের গতিপ্রকৃতি।

চাঁদ পৃথিবীকে পুরোপুরি বৃত্তাকার কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে না। ফলে কখনো চাঁদ পৃথিবীর তুলনায় কিছুটা কাছে থাকে, আবার কখনো দূরে সরে যায়। একইভাবে পৃথিবীও সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় সূর্য থেকে তার দূরত্বে সামান্য পরিবর্তন ঘটে। চাঁদ যখন তুলনামূলকভাবে বড় দেখায় এবং সূর্যকে দীর্ঘ সময় ধরে ঢেকে রাখার মতো অবস্থান তৈরি হয়, তখন দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সম্ভাবনা বাড়ে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের স্থায়িত্ব কয়েক সেকেন্ড থেকে প্রায় সাড়ে সাত মিনিট পর্যন্ত হতে পারে। তবে এত দীর্ঘ গ্রহণ বিরল হওয়ায় ২০২৭ সালের ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের টোটালিটি ঘিরে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয়েছে।

গ্রহণের সময় কী ঘটবে? গ্রহণের সময় পুরো পৃথিবী একসঙ্গে অন্ধকারে ডুবে যাবে না। বরং চাঁদের ছায়া পৃথিবীর যে নির্দিষ্ট সরু পথে পড়বে, সেই এলাকার মানুষই পূর্ণগ্রাসের রূপ স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন। আশপাশের বিস্তৃত এলাকায় সূর্য আংশিক ঢাকা পড়বে এবং দিনের আলো কিছুটা কমে আসবে।

পূর্ণগ্রাসের সময় সূর্যের উজ্জ্বল পৃষ্ঠ ঢাকা পড়ে যাওয়ায় এর বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা খালি চোখে দৃশ্যমান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এ সময় আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র বা গ্রহ সাময়িকভাবে দেখা যেতে পারে, তাপমাত্রাতেও সামান্য পরিবর্তন অনুভূত হতে পারে এবং আলোর আকস্মিক পরিবর্তনে প্রাণীদের আচরণেও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

তবে সূর্যগ্রহণ দেখার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণ সানগ্লাস দিয়ে সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়। সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশেষ সোলার ভিউয়ার বা গ্রহণ দেখার চশমা ব্যবহার করতে হয়। উপযুক্ত সুরক্ষা ছাড়া সরাসরি সূর্যের দিকে তাকালে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

সূত্র: সিএনএন, টাইমস অব ইন্ডিয়া

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

দিনে নামবে রাতের আঁধার: আসছে শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ

বিস্তারিত কমেন্টে