জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রী আবাসিক হল ‘নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল’-এ তীব্র আবাসন সংকটের পাশাপাশি নিম্নমানের খাবার ও রান্নার গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ১ হাজার ২৫০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় যেমন নিজেরা রান্না করতে পারছেন না, তেমনি হলের একমাত্র ক্যান্টিনের নিম্নমানের খাবারের কারণে অনেককে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে কিংবা বাড়তি খরচে বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
হল সূত্রে জানা যায়, ১৬ তলা ভবনের পঞ্চম তলা থেকে আবাসিক কার্যক্রম শুরু হলেও সেখানে তীব্র আসনসংকট রয়েছে। মূল নকশায় চারজনের থাকার উপযোগী কক্ষগুলোতে বর্তমানে প্রায় আটজন করে ছাত্রীকে থাকতে হচ্ছে। ফলে প্রতি ফ্লোরে গড়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে গ্যাসের চুলা রয়েছে মাত্র চারটি এবং বাথরুম মাত্র সাতটি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার অধিকাংশ সময়ই লাইনে গ্যাস থাকে না। মাঝেমধ্যে গভীর রাতে গ্যাস এলেও সারাদিন ক্লাস ও টিউশন শেষে রান্নার মতো শক্তি বা পরিবেশ থাকে না। অন্যদিকে হলে বৈদ্যুতিক কুকার ব্যবহারের অনুমতি না থাকায় চারটি চুলায় ৮৮ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। গ্যাস সংকটে বাড়ি থেকে আনা খাবার পর্যন্ত গরম করার সুযোগ পাচ্ছেন না তারা।
ফলে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের ক্যান্টিনের ওপর নির্ভর করতে হলেও সেখানে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। খাবারে প্রায়ই মাছি ও পোকামাকড় মেলা, শাকসবজি ও মাছ-মাংস আধাসিদ্ধ থাকা এবং দুর্গন্ধের অভিযোগ করেছেন ছাত্রীরা। এছাড়া অল্প রান্না হওয়ায় রাতে অনেকের কপালে খাবার জোটে না। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবারের অভাবে ছাত্রীদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা বাড়ছে।
হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) জান্নাতুল উম্মি তারিন জানান, খাবারের মান ক্রমাগত খারাপ হওয়ায় ছাত্রীদের পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যান্টিন পরিচালককে মান উন্নয়নের জন্য ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আঞ্জুমান আরা বলেন, ক্যান্টিন পরিচালককে আগামী ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে খাবারের মানসহ সার্বিক সেবার সন্তোষজনক উন্নতি না হলে টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন ক্যাটারার নিয়োগ দেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM