স্নাতক পাসের আগেই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগদান এবং পরবর্তীতে পদোন্নতি পাওয়ার পর এবার চাকরি স্থায়ীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোহান মিয়া নামের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করেই দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চাকরি করার এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগ দেন সোহান মিয়া। ওই পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক ডিগ্রি চাওয়া হলেও চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি ছিলেন উচ্চমাধ্যমিক পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র অনুযায়ী, তিনি চার বছর পর ২০১৬ সালে ডিগ্রি পাস করেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্নাতক পাসের আগে কীভাবে তিনি নির্দিষ্ট যোগ্যতাহীন পদে চাকরি পেলেন, তা খতিয়ে দেখতে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে তা এগোয়নি। উল্টো তাকে পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়া হয়। আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কনফার্মেশন বোর্ডে সোহান মিয়াসহ আপগ্রেডেশন পাওয়া ২৫ কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী করার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ১৫ জুন ইউজিসির এক চিঠিতে জানানো হয়, প্রদত্ত আপগ্রেডেশনগুলো নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় এর বিপরীতে কোনো বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়নি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে কমিশনকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ইউজিসির এই নির্দেশনা সত্ত্বেও চাকরি স্থায়ীকরণের উদ্যোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। উল্লেখ্য, এর আগে বেরোবিতে সনদ ও অভিজ্ঞতার তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন নিয়োগের অভিযোগে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল জলিল মিয়াসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কনফার্মেশন বোর্ডের সদস্য ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না। অভিযুক্ত সোহান মিয়াকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আবেদন যে কেউ করতে পারে, কিন্তু ফাইল আসার পর তা যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM