আধুনিক কর্মজীবনে দিনের পর দিন দীর্ঘসময় টানা বসে কাজ করা যেন এক স্বাভাবিক বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর কিংবা বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত কর্মীদের দিনের ৯ থেকে ১০ ঘণ্টাই পার করতে হয় টেবিল-চেয়ারে ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সামনে। ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘ সময় চেয়ার ছেড়ে ওঠা, পর্যাপ্ত পানি পান কিংবা একটু হাঁটাচলা করার সুযোগও মেলে না অনেকের।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার এই চর্চা কেবল ঘাড়, পিঠ ও কোমরে ব্যথাই বাড়ায় না; বরং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে তা নিঃশব্দে বাড়িয়ে তোলে হৃদ্রোগ (হার্ট অ্যাটাক) ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকি।
ডেস্ক জবে অভ্যস্ত ব্যক্তিদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং এসব জটিলতার ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা প্রধানত ৩টি জরুরি রক্ত পরীক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন:
১. লিপিড প্রোফাইল (Lipid Profile): রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL), উপকারী কোলেস্টেরল (HDL), মোট কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা জানতে এই পরীক্ষা করা জরুরি। দীর্ঘ শারীরিক নিষ্ক্রিয়তায় রগে চর্বি জমে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
২. ফাস্টিং ব্লাড সুগার ও HbA1c: বসে কাজ করার ফলে শরীরে কায়িক পরিশ্রম কম হয়, যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বৃদ্ধি করে। ফাস্টিং সুগার এবং বিগত তিন মাসের গড় শর্করার মাত্রা (HbA1c) পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বা বর্তমান অবস্থা নিখুঁতভাবে জানা যায়।
৩. ভিটামিন ডি পরীক্ষা (Vitamin D Test): টানা ৯-১০ ঘণ্টা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অফিসে চার দেয়ালে বন্দি থাকার ফলে সরাসরি সূর্যের আলো শরীরে লাগার সুযোগ কমে যায়। এতে হাড়ে ক্ষয় ও মাংসপেশিতে ব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, শুধু শারীরিক পরীক্ষাই দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ক্ষতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত রাখতে পারে না। এর পাশাপাশি কাজের প্রতি এক বা দুই ঘণ্টা পর পর চেয়ার ছেড়ে ৫ মিনিটের জন্য হাঁটাচলা করা, দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করা, সুষম খাবার গ্রহণ ও প্রতিদিন নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
kalprakash.com/IM