বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বাংলা বিভাগে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের গুরুতর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বাতিলের সুস্পষ্ট সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে অনিয়মপ্রাপ্ত শিক্ষকের বেতন-ভাতাসহ বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে এ পর্যন্ত পরিশোধিত যাবতীয় অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট অ্যাসেসমেন্ট শেষে ইউজিসি কর্তৃক প্রকাশিত এক তদারকি প্রতিবেদনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্যের উন্মোচন ঘটে। প্রতিবেদনে বেরোবি প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় মোট ২৯টি গুরুতর অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ক্রমিকেই রয়েছে বাংলা বিভাগের বিতর্কিত এই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া।
ইউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুমোদিত পদের তোয়াক্কা না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত স্থায়ী প্রভাষক নিয়োগ দিয়েছে, যার ফলে বাৎসরিক লাখ লাখ টাকার অননুমোদিত আর্থিক ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছে। বারংবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কার্যকর সমাধান না করায় এবং মনগড়া ব্যাখ্যা দেওয়ায় ইউজিসি উক্ত খাতের পূর্ণাঙ্গ বরাদ্দ স্থগিত রেখেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নিয়োগ নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, উক্ত বিতর্কিত নিয়োগ বোর্ডে তালিকায় ৪৭তম অবস্থানে থাকা মনির হোসেন নামের এক প্রার্থীকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অনার্সে ৩.৩৪ এবং মাস্টার্সে ৩.৬১ সিজিপিএ অর্জনকারী উক্ত প্রার্থীর চেয়ে মেধাক্রম ও শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে থাকা অন্তত ৪৬ জন প্রার্থীকে কৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি উচ্চতর ডিগ্রিধারী (এমফিল ও পিএইচডি) প্রার্থীদেরও বাদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর দুটি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও নিয়োগ বোর্ড অতিরিক্ত আরও একজনকে নিয়োগ প্রদান করে।
এ বিষয়ে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নিতাই কুমার ঘোষ দাপ্তরিক প্রমাণ ছাড়া মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান দাবি করেন, “বিষয়টি অনিয়ম ছিল না, ভিন্ন সময়ের দুটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ইউজিসির প্রতিনিধি দল হয়তো বিষয়টি পুরোপুরি বুঝতে পারেনি।”
তবে ইউজিসির চূড়ান্ত নির্দেশনায় এটিকে স্পষ্টত অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত অতিরিক্ত নিয়োগ হিসেবে সাব্যস্ত করে অবিলম্বে বাতিল ও অর্থ ফেরতের কঠোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
kalprakash.com/IM