খাবারের টেবিলে শিশুর হাতে মুঠোফোন তুলে না দিলে কিছুতেই খাবার মুখে তুলতে চায় না—এমন দৃশ্য এখন প্রায় প্রতিটি পরিবারেই প্রতিদিনের পরিচিত মাথাব্যথার কারণ। প্রথম দিকে সন্তানকে শান্ত রাখা বা দ্রুত খাওয়ানোর জন্য ডিজিটাল স্ক্রিন বা কার্টুন চালিয়ে দেওয়াটা সহজ পথ মনে হলেও, পরবর্তীতে তা শিশুর জন্য মারাত্মক আসক্তিতে পরিণত হয়।
বলিউড তারকা কারিনা কাপুর ও আলিয়া ভাটের পুষ্টিবিদ ঋজুতা দিবেকর এই সার্বিক বিষয়ে আলোকপাত করে জানিয়েছেন, একটু কৌশল ও ধৈর্য অবলম্বন করলেই শিশুকে স্ক্রিন আসক্তি থেকে মুক্ত করা সম্ভব।
কেন স্ক্রিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে শিশুরা? খাওয়ার সময় ফোনের রঙিন ভিজ্যুয়াল, উচ্চশব্দ ও চোখ ধাঁধানো দৃশ্য শিশুর নজর আটকে ফেলে। স্ক্রিনের প্রতি মনোযোগ থাকায় শিশু বুঝতেই পারে না সে কী খাচ্ছে, কতটুকু খাচ্ছে কিংবা তার পেট ভরেছে কি না। দিনের পর দিন এই অভ্যাস চালু থাকলে শিশুর মস্তিষ্ক খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও টেক্সচার অনুভব করার স্বাভাবিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এর ফলে পরবর্তীতে শিশুর স্বাভাবিক ক্ষুধা-তৃপ্তির অনুভূতির অভাব ও পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়।
পুষ্টিবিদ ঋজুতা দিবেকর জোর দিয়ে বলেছেন, হুট করে শিশুর হাত থেকে ফোন কেড়ে নিলে শিশু আরও বেশি জেদি হয়ে উঠতে পারে। বরং ধীরে ধীরে কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সন্তানকে এই আসক্তি থেকে বের করে আনা সম্ভব।
ফোন ছাড়ানোর ৩ কার্যকর সমাধান:
১. নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার রুটিন গড়ে তোলা: সন্তানের দুপুরের ও রাতের খাবারের সময় প্রতিদিন নির্দিষ্ট ও সুনির্দিষ্ট রাখুন। নিয়মিত একই সময়ে খাবার দিলে শিশুর শরীরে স্বাভাবিক বায়োলজিক্যাল ক্লক তৈরি হয়, ফলে সঠিক সময়ে ক্ষুধাবোধ জাগ্রত হয়। খিদে পেলে শিশু নিজের তাগিদেই স্ক্রিন ছাড়া খেতে আগ্রহী হবে।
২. সবাই মিলে একসঙ্গে বসে খাওয়া: শিশুকে একা বসিয়ে না খাইয়ে পরিবারের সবাই মিলে ডাইনিং টেবিলে একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস করুন। বড়দের খাওয়া দেখা এবং কথা ও গল্পের ছলে খাবার খেলে শিশুর নজর আর ফোনের দিকে যাবে না।
৩. ‘মাইন্ডফুল ইটিং’ বা চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস: তাড়াহুড়ো না করে খাবার আস্তে আস্তে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। খাদ্য মনস্তত্ত্বে এটাকে ‘মাইন্ডফুল ইটিং’ বলে। এটি অনুসরণ করলে শিশু খাবারের প্রকৃত স্বাদ ও বৈচিত্র্য বুঝতে শুরু করবে, যা তার স্ক্রিন নির্ভরতা কমিয়ে দেবে।
পরিশেষে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, রাতারাতি এই সমস্যার রূপান্তর ঘটবে না। তবে ধৈর্য ধরে ধারাবাহিক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। শিশু যদি এক দিনও ফোন ছাড়া খাবার শেষ করে, তবে সেটাকেই আপনার ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে ধরে নিতে হবে।
kalprakash.com/IM