সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথে অনেক সময় বাবা-মায়ের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হলে অভিভাবক হিসেবে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের চেয়ে সহায়ক ও পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করাই বেশি কার্যকর।
কাউন্সিলর ও ফ্যামিলি থেরাপিস্ট অর্চনা সিংহল জানান, ১৮ বছর বয়সের পর একজন সন্তান নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করে। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখলে তার আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মানসিক সুস্থতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হলে বাবা-মায়ের যে ৫টি অভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি:
১. সব সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া: শিক্ষা, ক্যারিয়ার, বিয়ে বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সব বিষয়ে সন্তানের হয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে তাকে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। প্রয়োজনে অভিভাবকরা পরামর্শ দিতে পারেন, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা সন্তানের ওপর ছেড়ে দেওয়াই সমীচীন।
২. ভুল করলেই ব্যর্থ মনে করা: ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া জীবনের অন্যতম একটি অংশ। প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের কোনো সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবক সমাধান করে না দিয়ে তাকে নিজে সমাধানের পথ খুঁজতে উৎসাহিত করা উচিত। এতে তার দায়িত্ববোধ বাড়ে।
৩. ব্যক্তিগত জীবনে অতিরিক্ত নজরদারি: কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মেলামেশা করছে, কী পরিমাণ অর্থ খরচ করছে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী করছে—এসব বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত নজরদারি বিশ্বাসের ভিত দুর্বল করে তোলে। সন্তানের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান জানানো জরুরি।
৪. অন্যের সঙ্গে তুলনা করা: ভাই-বোন, আত্মীয় কিংবা সমবয়সীদের সঙ্গে তুলনায় সন্তানের আত্মসম্মানবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্য কারও সঙ্গে তুলনা না করে সন্তানের নিজস্ব সামর্থ্য, অগ্রগতি ও অর্জনকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
৫. আবেগ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা: কোনো বিষয়ে মতের অমিল হলে আবেগঘন কথা বলে চাপ সৃষ্টি করলে সন্তান অহেতুক অপরাধবোধে ভুগতে পারে। তার নিজস্ব পছন্দ ও মতামতকে গুরুত্ব দিলে পারস্পরিক সম্পর্কের সুস্থতা বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পাশে থাকার অর্থ তার প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণ করা নয়। বরং প্রয়োজনে পাশে থাকা, তার মতামতকে শ্রদ্ধা জানানো এবং ব্যক্তি-স্বাধীনতা রক্ষা করাই একজন অভিভাবকের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
kalprakash.com/IM