এএফসি নারী এশিয়ান কাপ চলাকালে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে আলোচনায় আসা ইরানের দুই নারী ফুটবলার এবার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়েছেন। তারা হলেন ফাতেমেহ পাসানদিদেহ ও আতেফেহ রামেজানিসাদে।
গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন এই দুই ফুটবলার। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আগের দিন ব্রিসবেনে আয়োজিত এক নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।
অনুষ্ঠানে দুই ফুটবলারের বন্ধু, স্বজন, সমর্থক এবং ব্রিসবেনে বসবাসরত ইরানি সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নাগরিকত্ব পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে আতেফেহ রামেজানিসাদে বলেন, “বুধবার আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিনগুলোর একটি। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে পেরে আমি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। এই দেশ আমাকে নতুন জীবন গড়ার সুযোগ দিয়েছে। এখন মনে হচ্ছে, আমি এখানকারই একজন। তবে আমার ইরানি শিকড় ও স্মৃতিগুলো সবসময় আমার পরিচয়ের অংশ হয়ে থাকবে।”
অন্যদিকে ফাতেমেহ পাসানদিদেহ বলেন, “জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতার পর এই মুহূর্তটি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।”
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, দুই ফুটবলারের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া কেন দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে—এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হলেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার শরণার্থী বিষয়ক সংগঠন রিফিউজি কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে একজন শরণার্থীকে বৈধ ভিসায় অন্তত চার বছর অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করতে হয়।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ফুটবল খেলার সুযোগ করে দিতেই তাদের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি নারী এশিয়ান কাপ শেষে ইরানের সাতজন ফুটবলার ও কোচ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। পরে তাদের মধ্যে পাঁচজন সিদ্ধান্ত বদলে দেশে ফিরে যান। ফাতেমেহ পাসানদিদেহ ও আতেফেহ রামেজানিসাদে অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যান এবং পরে দেশটির শীর্ষ নারী ফুটবল লিগ এ-লিগ উইমেনস-এর ক্লাব ব্রিসবেন রোরে যোগ দেন।