জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বহিষ্কৃত ছাত্রলীগকর্মী আতিকুল ইসলামকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কারাদেশ অমান্য করে তাঁর এ অবাধ বিচরণের পেছনে আরেক বিতর্কিত ছাত্রলীগকর্মী আসাদুল আলমের প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয় (‘শেল্টার’) রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে চরম নিরাপত্তা শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় ও গভীর রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নৃশংস হামলার ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার অপরাধে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আতিকুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত সাপেক্ষে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করে। তবে শাস্তির মেয়াদ বহাল থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন তিনি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আতিকুলের ক্যাম্পাসে অবাধ চলাফেরার পেছনে ভূমিকা রাখছেন ছাত্রলীগকর্মী আসাদুল আলম। সম্প্রতি তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনে আতিকুল প্রকাশ্যে উপস্থিত হন এবং পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গে ছবি তুলে আসাদুল আলম তাঁর নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের আন্দোলন চলাকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ আখ্যা দেওয়া এবং হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত আসাদুল আলম সরকার পতনের পরও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মী এবং আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। একই সাথে তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনটির প্রচারণামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগকর্মী আসাদুল আলমের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনতিবিলম্বে বহিষ্কৃত অপরাধীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি এবং অপরাধীদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
kalprakash.com/IM