সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ | ১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৮ সফর, ১৪৪৮ | রাত ১০:৩৭:৫১

রাতের খাবার না খেলে শরীরে যেসব ক্ষতি হতে পারে

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৯
শেয়ার: mail
রাতের খাবার না খেলে শরীরে যেসব ক্ষতি হতে পারে

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

ব্যস্ত জীবনযাপন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা বা নানা কারণে অনেকেই রাতে খাবার না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েন। আবার ওজন কমানোর আশায় কেউ কেউ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের অংশ হিসেবে রাতের খাবার এড়িয়ে চলেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রাতের খাবার বাদ দেওয়া শরীরের জন্য সবসময় উপকারী নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে এটি বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাঝে মধ্যে এক-দুই দিন রাতের খাবার না খেলেও সাধারণত বড় ধরনের সমস্যা হয় না। তবে প্রতিদিনের অভ্যাস হিসেবে রাতের খাবার বাদ দিলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের আগে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি জোগায়। কারণ ঘুমের সময় দীর্ঘ সময় শরীর খাবার ছাড়াই থাকে। তাই শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে রাতের খাবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

শুধু শারীরিক নয়, রাতের খাবারের সামাজিক ও মানসিক গুরুত্বও রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস শিশুদের পুষ্টি, মানসিক বিকাশ এবং সুস্থ জীবনযাপনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

রাতের খাবার বাদ দিলে শরীর প্রয়োজনীয় সবজি, ফল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার থেকেও বঞ্চিত হতে পারে। কারণ অনেকেই দিনের অন্য সময়ের তুলনায় রাতে বেশি পরিমাণে সবজি গ্রহণ করেন। অথচ স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ মানুষ প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফল ও সবজি খান না।

নিয়মিত খাবারের সময় পরিবর্তন করলে শরীরের জৈবিক ঘড়িতেও প্রভাব পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনিয়মিত সময়ে খাওয়ার অভ্যাস শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত করতে পারে। এতে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও বিঘ্নিত হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত খাবার বাদ দেওয়ার অভ্যাস হৃদরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে বলেও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দিনে মাত্র একবার খাবার খাওয়ার সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া অল্প সময়ের জন্য রাতের খাবার না খেলেও অনেকের রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। এর ফলে দুর্বলতা, হাত কাঁপা, ক্লান্তি বা শক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তবে গভীর রাতে খাবার খাওয়াও শরীরের জন্য উপকারী নয়। ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে দেরিতে খাবার খেলে ক্ষুধা বাড়তে পারে এবং তৃপ্তির সংকেত দেওয়া লেপটিন হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে। ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া নিয়মিত খাবার বাদ দেওয়ার অভ্যাসের সঙ্গে বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং ঘুমের সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে বলেও বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

যা করবেন

মাঝে মধ্যে কোনো কারণে রাতের খাবার বাদ পড়লে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এটি যেন নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর জন্য রাতের খাবার পুরোপুরি বাদ না দিয়ে পরিমিত, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াই বেশি কার্যকর।

সূত্র: এভরিডে হেলথ

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward