প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর নির্ধারিত ১৭টি ক্যাটাগরির মধ্যে রাজশাহী বিভাগে পাবনার চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক বাছাই কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ এবং ওই কমিটির সদস্যসচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) নুর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌসের যৌথ স্বাক্ষরিত প্রকাশিত ফলাফল সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রাজশাহী বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করায় পাবনা জেলার সর্বপর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতিসহ জেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে চাটমোহর উপজেলার জনবান্ধব নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরীকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৪ নভেম্বর ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মুসা নাসের চৌধুরী চাটমোহর উপজেলায় যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি চাটমোহরের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে তিনি চাটমোহর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি উপজেলার মোট ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ‘আদর্শ বিদ্যালয়’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
বিদ্যালয়গুলো হলো— আফ্রাতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হান্ডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাইকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দোলং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফৈলজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বামনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পৈলানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভাদড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
উল্লেখিত ‘আদর্শ বিদ্যালয়’গুলোয় শ্রেণিকক্ষ ও ওয়াশরুম পরিচ্ছন্ন রাখা, সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যবস্থা করা, নিয়মিত শিক্ষার্থী উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে উপস্থিত হওয়া, শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত পোশাক, জুতা ও ব্যাগ নিশ্চিত করা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ড্রেস কোড মেনে চলা, প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন শ্রেণির মান অনুযায়ী শুদ্ধভাবে বাংলা ও ইংরেজি পাঠ করতে পারে এবং গণিত ও ব্যাকরণের সাধারণ বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে পারে— সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া যথাসময়ে সিলেবাস প্রণয়ন, বিদ্যালয়ের সব রেজিস্টার হালনাগাদ করা, হ্যান্ডনোট বা কনটেন্ট তৈরি, সকল শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা, শিশুদের জন্য আনন্দঘন ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, বিশেষ করে প্রাক্-প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা উপকরণ ও খেলার সামগ্রীর ব্যবস্থা করা, নিয়মিত অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া ক্লাসের পাঠ ক্লাসেই শেষ করা, প্রত্যেক অধ্যায় শেষে টেস্ট বা কুইজের ব্যবস্থা করা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাল্টিমিডিয়া ও অন্যান্য উপকরণের মাধ্যমে পাঠদান, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিখনঘাটতি চিহ্নিত করে তা দূর করার পরিকল্পনা গ্রহণ, নিয়মিত প্রাত্যহিক সমাবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রতিদিন সমাবেশ ও শ্রেণিকক্ষে ১০ মিনিট স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শিশুদের নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করা এবং সম্ভব হলে সততা স্টোর স্থাপনের মাধ্যমে সততার চর্চার ব্যবস্থা করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা ‘আদর্শ বিদ্যালয়’গুলো কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হলে পরবর্তী সময়ে এসব বিদ্যালয়ের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির সংকল্পের কথা জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী।
এছাড়াও মুসা নাসের চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নামসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরপর দুই বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগপ্রাপ্ত চাটমোহর উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের ছবিসহ তালিকা প্রকাশ এবং সাড়ম্বরে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
kalprakash.com/SAS
পাবনা প্রতিনিধি 

















