নীলফামারী সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) মোঃ মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজের বিরুদ্ধে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিভিন্ন ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সরকারি সহায়তা পাওয়ার আশায় মিনহাজের কাছে টাকা দেন। কেউ ধার করে, আবার কেউ সুদে টাকা এনে তার হাতে তুলে দেন। অভিযোগ রয়েছে, টাকা নেওয়ার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো ভাতার কার্ড বা সরকারি সুবিধা পাননি ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জাকারিয়া ইসলামের স্ত্রী আকলিমা আক্তারের কাছ থেকে মাতৃত্বকালীন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৪ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। একইভাবে শামসুন্নাহারের কাছ থেকে বিধবা ভাতার জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা, লতিফা বেগমের কাছ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং লাভলী বেগমের কাছ থেকেও ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকার বেশি আদায় করেছেন মিনহাজ। ভুক্তভোগী রাহাত ইসলাম বলেন, “আমার মায়ের বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে মিনহাজ ৩ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছে। শুধু আমাদের কাছ থেকেই নয়, এলাকার অনেক অসহায় মানুষের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ কোনো সুবিধা পায়নি।”
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ইউনিয়ন পরিষদকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে মিনহাজ দীর্ঘদিন ধরে অর্থ বাণিজ্য পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় নিজের প্রভাব বিস্তার করতেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মিনহাজের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। এছাড়া সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, স্থানীয় মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং জুয়া ও ক্যাসিনো সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও করেছেন এলাকাবাসী। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ ধরনের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, যাদের দায়িত্ব সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনসেবামূলক কাজে সহযোগিতা করা, তাদের বিরুদ্ধেই যদি দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রীয় সেবার প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে কয়েকজন ভুক্তভোগী টাকা ফেরত ও জবাবদিহি চাইতে মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
সিরাজুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি 





















