পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের বাবর-শ্রেণির করভেট যুদ্ধজাহাজে যুক্ত করেছে এমবিডিএ সিএএমএম-ইআর দীর্ঘ-পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। নৌবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় এটিকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন এই ব্যবস্থা তুরস্কের এমআইএলজিএম-ভিত্তিক করভেটগুলোর জন্য তৈরি ‘এলবাট্রস এনজি’ নৌ-ভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্মের অংশ। এর মাধ্যমে জাহাজগুলো এখন ৪৫ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্বে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আকাশীয় হুমকি মোকাবিলা করতে পারবে।
প্রতিরক্ষা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানই প্রথম দেশ যারা এই এলবাট্রস এনজি সিস্টেম ব্যবহার করছে, যা ২০২১ সালে বাবর-শ্রেণির করভেটের জন্য নির্বাচন করা হয়। জাহাজগুলোর প্রধান কামানের পেছনে উল্লম্ব উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা (VLS) এর মাধ্যমে এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।
সিএএমএম-ইআর ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে সক্রিয় রাডার হোমিং প্রযুক্তি এবং দ্বিমুখী ডেটালিংক, যা ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট সক্ষমতা নিশ্চিত করে। এটি শব্দের চেয়ে বেশি গতিতে চলতে সক্ষম এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দিতে পারে।
সফট ভার্টিক্যাল লঞ্চ প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সিস্টেম ৩৬০ ডিগ্রি কভারেজ প্রদান করে, ফলে একাধিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে দ্রুত ও ধারাবাহিক প্রতিরক্ষা গড়ে তোলা সম্ভব হয়। এর কার্যকর উচ্চতা ১০ কিলোমিটারেরও বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি পূর্ববর্তী এলওয়াই-৮০এন সেমি-অ্যাকটিভ রাডার হোমিং সিস্টেমের তুলনায় একটি প্রজন্মগত উন্নতি। টুগ্রিল-শ্রেণির ফ্রিগেটে ব্যবহৃত ওই সিস্টেমের পাল্লা ছিল প্রায় ৪০ কিলোমিটার, যেখানে সিএএমএম-ইআর তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভুলতা, গতি ও ইলেকট্রনিক প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করে।
সূত্র: টাইমস অব ইসলামাবাদ
kalprakash.com/SS
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
পাকিস্তান নৌবাহিনীর নতুন শক্তি: করভেটে যুক্ত হলো আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা