বাজারে পণ্যের প্রচারে নানা ধরনের আকর্ষণীয় অফার নতুন কিছু নয়। কখনও একটি কিনলে আরেকটি ফ্রি, আবার কখনও পণ্যের সঙ্গে দেওয়া হয় বিশেষ উপহার। তবে এবার কোরবানির পশুর বাজারে এক ভিন্নধর্মী ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার এক খামারি। তার খামারের বিশাল আকৃতির দুটি ষাঁড় কিনলেই ক্রেতাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হবে ছাগল।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬ নম্বর খাওলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম খাওলিয়া গ্রামের “তাজু ডেইরি ফার্ম”-এ লালন-পালন করা দুটি বিশাল ষাঁড় এখন স্থানীয়ভাবে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। ‘কালু’ ও ‘ধলু’ নামের এই দুটি গরু দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন।
খামারের মালিক তাজুল ইসলাম জানান, তার খামারের সবচেয়ে বড় ষাঁড় ‘কালু’র ওজন প্রায় ৪০ মণ। ফ্রিজিয়ান জাতের কালো-সাদা রঙের এই গরুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭ ফুট। তিনি গরুটির মূল্য নির্ধারণ করেছেন ১৫ লাখ টাকা। একই খামারের অপর ষাঁড় ‘ধলু’র ওজন প্রায় ২৫ মণ, যার দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।
খামারি তাজুল ইসলামের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘কালু’ কিংবা ‘ধলু’— যে কোনো একটি গরু কিনলেই ক্রেতাকে প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি করে ছাগল উপহার দেওয়া হবে। অর্থাৎ দুটি গরুর জন্য মোট প্রায় ৫০ হাজার টাকার ছাগল উপহার রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তাজুল ইসলাম বলেন, “এবারই প্রথম এত বড় আকারের ষাঁড় পালন করেছি। গরু দুটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। কেউ কেউ আগ্রহ নিয়ে দরদামও করছেন। ক্রেতাদের জন্য একটু ব্যতিক্রম কিছু করার চিন্তা থেকেই এই উপহারের ব্যবস্থা করেছি।”
তিনি আরও জানান, প্রায় ২৮ থেকে ২৯ মাস ধরে অত্যন্ত যত্নে গরু দুটি লালন-পালন করা হয়েছে। প্রতিদিন নিয়মিত গোসল, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে এগুলোকে বড় করা হয়েছে। খাদ্য হিসেবে কাঁচা ঘাস, ভুসি ও কুড়া ব্যবহার করা হলেও কোনো ধরনের ক্ষতিকর বা কৃত্রিম খাদ্য উপাদান ব্যবহার করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
খামারি জানান, তাদের মূল ব্যবসা দুগ্ধ খামার হলেও প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ষাঁড় আলাদাভাবে প্রস্তুত করা হয়। তবে এবার ‘কালু’ ও ‘ধলু’র বিশাল আকৃতি এবং ভিন্নধর্মী অফারের কারণে সাধারণ মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মোরেলগঞ্জের কোরবানির পশুর বাজারে এবার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই দুটি বিশাল ষাঁড়। বিশেষ করে “গরু কিনলে ছাগল ফ্রি” ঘোষণাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি 























