রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে দেশে ফিরেছেন মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার ইলেকট্রিশিয়ান মোহন মিয়াজী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ঘোষিত তিন দিনের যুদ্ধবিরতির সময়ই তার দেশে ফেরা সম্ভব হয় বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দুই বছর আগে ফেসবুকে রাশিয়ায় কাজের বিজ্ঞাপন দেখে ভালো বেতনের প্রলোভনে সেখানে যান মোহন। শুরুতে তিনি পূর্ব রাশিয়ার সোবোডনি এলাকায় ইলেকট্রিক্যাল কাজ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে ইউক্রেন যুদ্ধে জোরপূর্বক যুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মোহনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে জানানো হয়েছিল তিনি কোনো যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হবেন না। তবে পরে তাকে ইউক্রেনের অধিকৃত দোনেৎস্ক অঞ্চলে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে পাঠানো হয়। সেখানে ভয়াবহ ড্রোন হামলা, কামানের গোলা এবং মাইন বিস্ফোরণের মধ্যে পড়েন তিনি। একাধিক সহযোদ্ধার মৃত্যু এবং নিজের আহত হওয়ার কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রুশ কমান্ডারদের পক্ষ থেকে বেতন আত্মসাৎ, নির্যাতন এবং অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছেন তিনি ও অন্য বিদেশি যোদ্ধারা। তার দাবি অনুযায়ী, একই ইউনিটে আরও কয়েকজন বাংলাদেশিও ছিলেন।
প্রায় আট মাস যুদ্ধক্ষেত্রে থাকার পর ২০২৫ সালের শেষ দিকে তিনি সাময়িক ছুটিতে মস্কো পৌঁছান এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহ করে দেশে ফেরেন। তার পাসপোর্ট আগে সামরিক কর্তৃপক্ষ নিয়ে নেয় বলে জানান তিনি।
দেশে ফিরে বর্তমানে তিনি মুন্সিগঞ্জে পরিবারের সঙ্গে আছেন। যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা নিয়ে মোহন দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, রাশিয়া যাওয়াটা তার জীবনের বড় ভুল ছিল।
তবে প্রতিবেদনে তার পাওয়া অর্থ বা আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
kalprakash.com/SS
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















