সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য নিয়ে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য—লবস্টার বা গলদা চিংড়িও মানুষের মতো ব্যথা অনুভব করতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত জীবন্ত অবস্থায় গরম পানিতে লবস্টার রান্নার পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের মতে, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় প্রাণীগুলো যে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা কেবল স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং ব্যথার অনুভূতির ইঙ্গিত হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, লবস্টারের ওপর ইলেকট্রিক শক প্রয়োগ করলে তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। একইভাবে অ্যাসপিরিন বা লিডোকেন জাতীয় ব্যথানাশক প্রয়োগ করলে তাদের অস্থিরতা অনেকটা কমে যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে তাদের স্নায়ুতন্ত্র ব্যথার সংকেত প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম।
ইউনিভার্সিটি অব গোথেনবার্গের গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গরু বা মুরগির মতো অন্যান্য প্রাণীর মতোই ক্রাস্টেশিয়ান (লবস্টার, কাঁকড়া ইত্যাদি) প্রাণীদের ক্ষেত্রেও মানবিক আচরণ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। তাদের মতে, জীবন্ত অবস্থায় সেদ্ধ করা একটি কষ্টদায়ক প্রক্রিয়া হতে পারে।
ইতিমধ্যে নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়ার মতো কিছু দেশ জীবন্ত অবস্থায় লবস্টার সেদ্ধ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যও কাঁকড়া, লবস্টার ও অক্টোপাসকে সংবেদনশীল প্রাণী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রাণীকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের আগে তাদের অচেতন করার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হলে তাদের কষ্ট অনেকটাই কমানো সম্ভব।
গবেষকরা বলছেন, প্রাণীকল্যাণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি আরও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন, কারণ বিজ্ঞান এখন ধীরে ধীরে এসব প্রাণীর সংবেদনশীলতা সম্পর্কে নতুন তথ্য দিচ্ছে।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 






















