সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতনের প্রায় অর্ধেক প্রথম ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। পরবর্তী দুই অর্থবছরে বাকি অংশসহ ভাতা সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। দুই বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ কাঠামো কার্যকর করার বিকল্প প্রস্তাবও আলোচনায় আছে।
সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এই রূপরেখা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন মিললে আগামী অর্থবছর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।
অর্থ বিভাগের একাধিক সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি জাতীয় বেতন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং তারা তাদের মতামত জমা দিয়েছে। কমিশনের সুপারিশে আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গঠিত বেতন কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করে। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়। তবে পুরো প্রস্তাব বাস্তবায়নে এক লাখ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একসঙ্গে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি বাস্তবায়ন করলে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে। তাই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নকেই অধিক বাস্তবসম্মত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কমিশনের সুপারিশে শুধু বেতন নয়, স্বাস্থ্য বীমা, পেনশন সংস্কার, ভাতা বৃদ্ধি, সার্ভিস কাঠামোর পুনর্বিন্যাস এবং কল্যাণ বোর্ড সংস্কারের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ও বৈশাখী ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন স্তরে ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
বর্তমানে সরকারি বেতন-ভাতা, পেনশন ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ে সরকারের বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে। ফলে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে রাজস্ব আয় বাড়ানো, কর ফাঁকি রোধ এবং করজাল সম্প্রসারণকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আর্থিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
kalprakash.com/SS
বাণিজ্য ডেস্ক 























