রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নারীদের জন্য আলাদা বাসসেবা, বাইসাইকেল রাইড শেয়ারিং, বাসরুট পুনর্বিন্যাস, বিদ্যুৎচালিত বাস এবং মেট্রোরেলের পাশাপাশি লাইট বা মনোরেল চালুর পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদে ঢাকায় কিছু নির্দিষ্ট রুটে নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আটটি রুটে নয়টি বাস চালু করার কথা রয়েছে। এসব বাসে নারী চালক ও সহকারী নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স দেওয়া হবে।
যাত্রীদের নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব চলাচল বাড়াতে বাইসাইকেল রাইড শেয়ারিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উত্তরা এলাকায় মেট্রোরেল স্টেশনকেন্দ্রিক সাইকেল শেয়ারিং সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ছয়টি সাইকেল স্ট্যান্ড এবং প্রায় ১৫০টি সাইকেল থাকবে।
মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় রাজধানীর বাসরুট পুনর্বিন্যাস বা রেশনালাইজেশনের কাজ চলছে। এর মাধ্যমে সীমিত কিছু রুট ও কোম্পানির অধীনে নির্দিষ্ট রঙের বাস চালু করে শৃঙ্খলা আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নির্দিষ্ট স্টপেজে বাস থামবে এবং ব্যবস্থাপনায় একধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
দীর্ঘমেয়াদে গণপরিবহনে বিদ্যুৎচালিত বাস চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য মেট্রোরেল ও দূরপাল্লার পরিবহনে বিশেষ ভাড়ায় ছাড় দেওয়ার নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। পরিবহনশ্রমিকদের জন্য ইউনিফর্ম সরবরাহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
গণপরিবহনের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মেট্রোরেলের পাশাপাশি লাইট রেল বা মনোরেল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মনোরেল একটিমাত্র রেল বিমের ওপর চলাচল করে এবং তুলনামূলক কম জায়গায় দ্রুত নির্মাণ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিকল্প রেলভিত্তিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু রয়েছে এবং এটি কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর এবং নর্দা থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পসহ আরও কয়েকটি মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো সমন্বিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে যাত্রীসেবা উন্নত হয় এবং ঢাকার যানজট ও বিশৃঙ্খলা কমে আসে।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 























