তীব্র দাবদাহের মধ্যে দেশজুড়ে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। দিনে-রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। গরমের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ও ব্যবসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় উৎপাদনে বড় ঘাটতির কারণে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে।
গত বুধবার দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৬৪৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৪৬৭ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সারাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে। ঢাকার বাইরে পরিস্থিতি আরও বেশি সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কোন এলাকায় কত লোডশেডিং
পিজিসিবির অঞ্চলভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী—
- ঢাকা জোনে ৬ হাজার ১৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।
- খুলনা জোনে ১ হাজার ৯৭৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৩৮০ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে।
- চট্টগ্রাম জোনে ১ হাজার ৫৮৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে।
- রাজশাহী জোনে ১ হাজার ৮০৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২৮০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।
- কুমিল্লা জোনে ১ হাজার ৫৭৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ২২০ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে।
- ময়মনসিংহ জোনে ১ হাজার ৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৮০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে।
- সিলেট জোনে ৫৭৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১০০ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে।
- বরিশাল জোনে ৪৬৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৬০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।
- রংপুর জোনে ১ হাজার ২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৬৬ মেগাওয়াট ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, তাপমাত্রা কমে না আসা পর্যন্ত বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। এর সঙ্গে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কারিগরি সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 



















