কুষ্টিয়ার দরবার শরিফে পীর শামীমকে পৈশাচিক কায়দায় কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, তেজগাঁও কলেজ সংসদ।
রবিবার (১২ এপ্রিল) তেজগাঁও কলেজ ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে এ প্রতিবাদ সমাবেশে ন্যায়বিচার ও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা পীর শামীম হত্যার ঘটনাকে ঘৃণ্য ও নৃশংস আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তারা বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
তেজগাঁও কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সংগঠক ফজলে রাব্বি অর্নব বলেন, কুষ্টিয়ার দরবার শরিফে হামলা চালিয়ে পীর শামীমকে যেভাবে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করা হয়েছে, তা প্রমাণ করে দেশে সাম্প্রদায়িক উগ্রতা ও মব সন্ত্রাস কত ভয়ংকরভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আমরা বর্তমান সরকারকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই—মব সন্ত্রাস ও ধর্মীয় উগ্রবাদ দমনে ব্যর্থতার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে এবং উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে না পারলে, জনগণের আদালতে জবাবদিহি করতেই হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিএনপির সরকারকে বলতে চাই, উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের প্রশ্নে ধোঁয়াশা ও নীরবতা আর চলবে না। মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিন, নতুবা প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির মদদদাতা হিসেবেই ইতিহাস আপনাদের চিহ্নিত করবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করে দিতে চাই—রাষ্ট্রযন্ত্র যদি সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, যদি প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকে, তবে সেই রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হবেই।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঘোষণা করছে, এই বাংলার মাটিতে মবের শাসন চলবে না, ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর সন্ত্রাস চলবে না, প্রতিক্রিয়াশীল অপশক্তির তাণ্ডব চলবে না।
এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা পীর শামীমের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। ছাত্র ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ দেশব্যাপী এ ধরনের সহিংসতার প্রতিবাদে আরও কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন।
জান্নাতুন নেছা বুশরা, তেজগাঁও কলেজ প্রতিনিধি 





















