বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান (রহ.) মাজারের দিঘিতে একটি কুকুর কুমিরের শিকার হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ এটিকে পরিকল্পিতভাবে কুমিরকে কুকুর খাওয়ানো হয়েছে বলে দাবি করছেন, আবার অনেকে ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন। সরেজমিন অনুসন্ধানে ঘটনার ভিন্ন প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৮ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার মাজারের দিঘির ঘাট এলাকায়। দর্শনার্থীদের মতে, এই দিঘির কুমির বহুদিন ধরে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ পরিবারসহ এখানে কুমির দেখতে আসেন। মাদারীপুর থেকে আসা এক দর্শনার্থী জানান, স্বাভাবিকভাবে মিঠা পানির কুমির খুব কম দেখা যায়, তাই সুযোগ পেয়ে অনেকেই এখানে ভিড় করেন। তবে কুমিরকে কুকুর খাওয়ানোর মতো ঘটনা সত্য হলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
আলিফ নামের এক দর্শনার্থী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি পরিকল্পিত নাকি দুর্ঘটনা—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, মাজারের পরিবেশ ও মর্যাদা রক্ষায় সঠিক তথ্য তুলে ধরা জরুরি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘাটসংলগ্ন দোকানি বিনা আক্তার জানান, কুকুরটি ঘটনার আগে কয়েকজনকে তাড়া করে এবং একটি শিশুকেও কামড় দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কুকুরটি পানিতে পড়ে গেলে দিঘিতে থাকা কুমির সেটিকে ধরে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মাজারের নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদার বলেন, ঘটনার সময় ঘাটের পাশে একটি কুমির অবস্থান করছিল এবং দর্শনার্থীরা সেটি দেখছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে একটি পথকুকুর হঠাৎ তার পায়ে আঁচড় দেয়। আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায় এবং দিঘির কুমির সেটিকে টেনে নেয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর কুকুরটির দেহ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করে মাটি চাপা দেওয়া হয়। তিনি আহত হয়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা ও টিকা গ্রহণ করেছেন বলেও জানান।
খানজাহান (রহ.) মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অনভিপ্রেত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে প্রচার করা হয়েছে তা পুরোপুরি সঠিক নয়। তিনি মাজারের পবিত্রতা রক্ষায় দায়িত্বশীলভাবে তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিরকে কুকুর খাওয়ানোর অভিযোগে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রকৃত ঘটনা জানতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য ও গুজব ছড়ালেও স্থানীয়দের অনেকেই এটিকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবে মনে করছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি 



















