বাংলাদেশ ০২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য নিজেই ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায় Logo বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ বাঁচাতে না পারলে ঢাকা রক্ষা সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Logo পরিবেশ রক্ষায় শিশুদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আহ্বান Logo হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে সমঝোতার আহ্বান ওমানের Logo হরমুজের পর আরও রপ্তানি করিডোর বন্ধের হুমকি আইআরজিসির Logo ১৫ জুলাই: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, যেভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে জুলাই আন্দোলন Logo আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল, ম্যাচের ভাগ্য গড়বেন কি মেসি? Logo সেমিফাইনালে মুখোমুখি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা, পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে? Logo আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে সুসংবাদ পেল ইংল্যান্ড Logo দুর্যোগে গুজব নয়, যাচাইকৃত তথ্য প্রচারই ইসলামের শিক্ষা

জিয়ানগরের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন

পিরোজপুরের জিয়ানগরে স্বামী পরিত্যাগ করা এক গৃহবধূ অভাবের তাড়নায় তিন শিশুকে ইউনিয়ন পরিষদে ফেলে উধাও হলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন।

গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, অসহায় তিন শিশুর বাবা আমান উল্লাহ এক বছর আগে স্ত্রী সন্তান ফেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করছেন। তিনটি শিশু এবং তাদের মায়ের কোন খোঁজ খবর না নেওয়ায় পরিবারটি চরম খাদ্য সংকটে পড়ে।

মাঝে মাঝে খাবারের সহায়তার জন্য অসহায় তিন শিশুর মা ইউনিয়ন পরিষদে আসতেন। অবশেষে অভাবের তাড়নায় বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে ইউনিয়ন পরিষদে এসে তিনি তিনটি শিশু সন্তান রেখে উধাও হন। মা মুক্তা বেগমের বয়স ২৭ বছর।

বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিক জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এরপর খুঁজে বের করা হয় তিন শিশুর অসহায় মাকে। পরে প্রশাসন আয়ের একমাত্র অবলম্বন সেলাই মেশিন এবং সরকারি সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে নগদ ৩ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৩০ কেজি চাল, ৪ কেজি ডাল, ৪ লিটার তেল এবং ২ কেজি চিনি প্রদান করা হয়।

সেই সাথে গৃহবধূ মুক্তা বেগমের উপার্জনের জন্য একটি সেলাই মেশিন সহ সরকারি অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, মুক্তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা থাকেন। তার আয়ের একমাত্র সম্বল সেলাই মেশিনটিও নিয়ে যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ঘটনাটি জেলা প্রশাসকের নজরে আসলে ওই তিন শিশুর মাকে খুঁজে বের করে খাদ্য সহায়তা, সেলাই মেশিনসহ সরকারি অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অসহায় পরিবারটিকে খাদ্য সহায়তা, সেলাই মেশিনসহ সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। অসহায় পরিবারটির পুনর্বাসনে উপজেলা প্রশাসন আরও সহায়তা প্রদান করবে।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য নিজেই ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়

জিয়ানগরের অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন

প্রকাশিত: ০৭:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

পিরোজপুরের জিয়ানগরে স্বামী পরিত্যাগ করা এক গৃহবধূ অভাবের তাড়নায় তিন শিশুকে ইউনিয়ন পরিষদে ফেলে উধাও হলে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন।

গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, অসহায় তিন শিশুর বাবা আমান উল্লাহ এক বছর আগে স্ত্রী সন্তান ফেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করছেন। তিনটি শিশু এবং তাদের মায়ের কোন খোঁজ খবর না নেওয়ায় পরিবারটি চরম খাদ্য সংকটে পড়ে।

মাঝে মাঝে খাবারের সহায়তার জন্য অসহায় তিন শিশুর মা ইউনিয়ন পরিষদে আসতেন। অবশেষে অভাবের তাড়নায় বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে ইউনিয়ন পরিষদে এসে তিনি তিনটি শিশু সন্তান রেখে উধাও হন। মা মুক্তা বেগমের বয়স ২৭ বছর।

বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিক জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এরপর খুঁজে বের করা হয় তিন শিশুর অসহায় মাকে। পরে প্রশাসন আয়ের একমাত্র অবলম্বন সেলাই মেশিন এবং সরকারি সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া উপজেলা প্রশাসন থেকে নগদ ৩ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৩০ কেজি চাল, ৪ কেজি ডাল, ৪ লিটার তেল এবং ২ কেজি চিনি প্রদান করা হয়।

সেই সাথে গৃহবধূ মুক্তা বেগমের উপার্জনের জন্য একটি সেলাই মেশিন সহ সরকারি অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হয়।

জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু বলেন, মুক্তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা থাকেন। তার আয়ের একমাত্র সম্বল সেলাই মেশিনটিও নিয়ে যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ঘটনাটি জেলা প্রশাসকের নজরে আসলে ওই তিন শিশুর মাকে খুঁজে বের করে খাদ্য সহায়তা, সেলাই মেশিনসহ সরকারি অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অসহায় পরিবারটিকে খাদ্য সহায়তা, সেলাই মেশিনসহ সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। অসহায় পরিবারটির পুনর্বাসনে উপজেলা প্রশাসন আরও সহায়তা প্রদান করবে।