লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলার কারণে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা এবং নিন্দার ঢেউ বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধানের পর এবার সিরিয়া ও ওমানও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে বলেছে, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা আন্তর্জাতিক আইন, মানবিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন। সিরিয়া অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে। লেবাননকে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ দেশ আখ্যা দিয়ে সিরিয়া সংহতি প্রকাশ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের আগ্রাসন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও লেবাননে হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব হামলা লেবাননের সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন। ওমান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলকে দায়ী করতে এবং জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টুর্কও লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই রক্তপাত ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো রক্ষা করা বাধ্যতামূলক।
গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি মানলেও ইসরায়েল তা মানছে না এবং লেবাননে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, ইরানে হামলা স্থগিত হলেও লেবাননে বিমান হামলা চলবে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননজুড়ে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালায়। এতে ২৫৪ জন নিহত এবং এক হাজারেরও বেশি আহত হয়। লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার এটিকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) লেবাননের জনাকীর্ণ এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
kalprakash.com/SS
কাল প্রকাশ 



















