বাংলাদেশ ০৭:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo পিসিসিপি’র উদ্যোগে রাঙ্গামাটিতে ২৫০ অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ Logo বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক Logo রাঙ্গামাটিতে এতিমদের মুখে হাসি, বিতরণ করা হলো ঈদ উপহার ও নগদ সহায়তা Logo নাটোরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, থানায় মামলা Logo তিস্তার ভাঙনে শেষ আশ্রয় হারাচ্ছে শতাধিক পরিবার, দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ Logo গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া Logo ঈদে যাত্রীচাপে রাস্তায় কিছু ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে: সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম Logo আরাফাতের দিনে কাবার ঠিক ওপরে সূর্য, ৩৩ বছর পর কাবা শরিফে থাকবে না ছায়া Logo ঈদযাত্রায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা, যাত্রী হয়রানি ঠেকাতে মোবাইল টিম: ডিএমপি কমিশনার Logo ভ্যাপসা গরমের পর রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি

শেরপুরে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ

নাম খারিজ বাতিলের আবেদনে তলব করা তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে পক্ষপাতমূলক ভুয়া প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সেলিনা পারভিন নামে ওই ভূমি কর্মকর্তা শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ও রামচন্দ্রকুড়া মন্ডলিয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন। ভূমি কর্মকর্তার এমন প্রতিবেদন নিয়ে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।

জানা গেছে, উপজেলার নাকুগাঁও মৌজায় নাকুগাঁও স্থলবন্দর এলাকায় ৫১৬ নং দাগে ডেপুটি কমিশনারের নামে রেকর্ডভুক্ত ও বাড়ি শ্রেণিভুক্ত ৩ একর ১৩ শতক জমি রয়েছে। জমিটিতে আগে স্থানীয় ভূমিহীনদের বসতবাড়ি থাকলেও প্রায় ২৫ বছর ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির ভোগদখলে স্থলবন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর মধ্যে ভূমিহীন হাবেজ উদ্দিনের দখলে থাকা ২০ শতক জমিতে আর্থিক চুক্তিতে তৌহিদুল আলমের মালিকানাধীন ‘নিলয় এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি আমদানী-রফতানী প্রতিষ্ঠান সেমিপাকা ও টিনসেড অফিস করে কয়লা এবং পাথর আমদানীর ডিপো হিসেবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

সম্প্রতি একই জমি দখলে নিতে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দিন ১৯৯০ সালে দেখানো একটি ভুয়া কবুলিয়তনামা বন্দোবস্ত দলিল উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে ওই জমি দখলে নিতে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তা সেলিনা পারভিনের দ্বারস্থ হলে তিনি পতাকা টানিয়ে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ভোগদখলকারীদের বাধার মুখে এ চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

পরবর্তীতে জামাল উদ্দিনের ওই কবুলিয়তনামা বন্দোবস্ত সঠিক কি না যাচাই করতে গেলে বন্দোবস্ত দলিলটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি শেরপুর মহাফেজখানার তল্লাসীকারক রেজুয়ান হোসেনের মাধ্যমে। এমতাবস্থায় জামাল উদ্দিনের নামে বন্দোবস্তের পর নাম খারিজ বাতিলের আবেদন করেন ভোগদখলকারী হাবেজ উদ্দিন। আবেদনের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান জমির বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদন তলব করেন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সেলিনা পারভিনের কাছে।

সেলিনা পারভিন জামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগসাজশ করে উল্লেখিত ভূমিটি ডেপুটি কমিশনারের নামে রেকর্ডভুক্ত উল্লেখ করলেও তা বাদী-বিবাদী কারও দখলে নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। শুধু তাই নয়, আগে ওই জমিটি জামাল উদ্দিনের দখলে ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দখলদার হাবেজ উদ্দিন, নিলয় এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপকসহ আশপাশের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা জানান, উল্লেখিত জমিটি স্বাধীনতার পর থেকে হাবেজ উদ্দিনের ভোগদখলে ছিল। নাকুগাঁও স্থলবন্দর ঘোষণার পর তিনি বাড়ি সরিয়ে নিয়ে এখানে ডিপো হিসেবে নিলয় এন্টারপ্রাইজের কাছে চুক্তিভিত্তিক দিয়েছেন। বর্তমানে জামাল উদ্দিনকে ওই জমি বন্দোবস্ত পাইয়ে দিতে মোটা অংকের অনৈতিক লেনদেন করে সত্য আড়াল করে ভুয়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সেলিনা পারভিন।

এ বিষয়ে নাকুগাঁও স্থলবন্দর আমদানী-রফতানীকারক সমিতির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল জানান, খাস ওই জমিটি হাবেজ উদ্দিনের ভোগদখলে ছিল। যা তিনি নিলয় এন্টারপ্রাইজের কাছে ডিপো হিসেবে ব্যবহারের জন্য চুক্তিভিত্তিক প্রদান করেছেন। জমি কখনোই জামাল উদ্দিনের দখলে ছিল না।

জামাল উদ্দিন তার নামে বন্দোবস্ত সঠিক দাবী করে জানান, ওই জমিটি নিলয় এন্টারপ্রাইজের দখলে রয়েছে। আমার দখলে নেই। সরকারীভাবে জমি পেলে যাব, নইলে যাব না।

ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সেলিনা পারভিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ওই জমি বাদী-বিবাদী কারও দখলে নেই। এ মতামতের চ্যালেঞ্জ করলে তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে দেখে বলতে হবে। একপর্যায়ে মতামত দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে মিসকেস হওয়ার পরও শুনানি হয়নি। শুনানীর সময় যাচাই-বাছাই করা হবে।

চলতি বছরের শুরুতে নিজের কার্যালয়ে বসে ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সেলিনা পারভিনের আর্থিক লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

পিসিসিপি’র উদ্যোগে রাঙ্গামাটিতে ২৫০ অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

শেরপুরে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১১:৪১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

নাম খারিজ বাতিলের আবেদনে তলব করা তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে পক্ষপাতমূলক ভুয়া প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সেলিনা পারভিন নামে ওই ভূমি কর্মকর্তা শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ও রামচন্দ্রকুড়া মন্ডলিয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত রয়েছেন। ভূমি কর্মকর্তার এমন প্রতিবেদন নিয়ে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।

জানা গেছে, উপজেলার নাকুগাঁও মৌজায় নাকুগাঁও স্থলবন্দর এলাকায় ৫১৬ নং দাগে ডেপুটি কমিশনারের নামে রেকর্ডভুক্ত ও বাড়ি শ্রেণিভুক্ত ৩ একর ১৩ শতক জমি রয়েছে। জমিটিতে আগে স্থানীয় ভূমিহীনদের বসতবাড়ি থাকলেও প্রায় ২৫ বছর ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির ভোগদখলে স্থলবন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর মধ্যে ভূমিহীন হাবেজ উদ্দিনের দখলে থাকা ২০ শতক জমিতে আর্থিক চুক্তিতে তৌহিদুল আলমের মালিকানাধীন ‘নিলয় এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি আমদানী-রফতানী প্রতিষ্ঠান সেমিপাকা ও টিনসেড অফিস করে কয়লা এবং পাথর আমদানীর ডিপো হিসেবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

সম্প্রতি একই জমি দখলে নিতে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দিন ১৯৯০ সালে দেখানো একটি ভুয়া কবুলিয়তনামা বন্দোবস্ত দলিল উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে ওই জমি দখলে নিতে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন উপ-সহকারী কর্মকর্তা সেলিনা পারভিনের দ্বারস্থ হলে তিনি পতাকা টানিয়ে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ভোগদখলকারীদের বাধার মুখে এ চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

পরবর্তীতে জামাল উদ্দিনের ওই কবুলিয়তনামা বন্দোবস্ত সঠিক কি না যাচাই করতে গেলে বন্দোবস্ত দলিলটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি শেরপুর মহাফেজখানার তল্লাসীকারক রেজুয়ান হোসেনের মাধ্যমে। এমতাবস্থায় জামাল উদ্দিনের নামে বন্দোবস্তের পর নাম খারিজ বাতিলের আবেদন করেন ভোগদখলকারী হাবেজ উদ্দিন। আবেদনের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান জমির বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদন তলব করেন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সেলিনা পারভিনের কাছে।

সেলিনা পারভিন জামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগসাজশ করে উল্লেখিত ভূমিটি ডেপুটি কমিশনারের নামে রেকর্ডভুক্ত উল্লেখ করলেও তা বাদী-বিবাদী কারও দখলে নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। শুধু তাই নয়, আগে ওই জমিটি জামাল উদ্দিনের দখলে ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দখলদার হাবেজ উদ্দিন, নিলয় এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপকসহ আশপাশের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা জানান, উল্লেখিত জমিটি স্বাধীনতার পর থেকে হাবেজ উদ্দিনের ভোগদখলে ছিল। নাকুগাঁও স্থলবন্দর ঘোষণার পর তিনি বাড়ি সরিয়ে নিয়ে এখানে ডিপো হিসেবে নিলয় এন্টারপ্রাইজের কাছে চুক্তিভিত্তিক দিয়েছেন। বর্তমানে জামাল উদ্দিনকে ওই জমি বন্দোবস্ত পাইয়ে দিতে মোটা অংকের অনৈতিক লেনদেন করে সত্য আড়াল করে ভুয়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সেলিনা পারভিন।

এ বিষয়ে নাকুগাঁও স্থলবন্দর আমদানী-রফতানীকারক সমিতির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল জানান, খাস ওই জমিটি হাবেজ উদ্দিনের ভোগদখলে ছিল। যা তিনি নিলয় এন্টারপ্রাইজের কাছে ডিপো হিসেবে ব্যবহারের জন্য চুক্তিভিত্তিক প্রদান করেছেন। জমি কখনোই জামাল উদ্দিনের দখলে ছিল না।

জামাল উদ্দিন তার নামে বন্দোবস্ত সঠিক দাবী করে জানান, ওই জমিটি নিলয় এন্টারপ্রাইজের দখলে রয়েছে। আমার দখলে নেই। সরকারীভাবে জমি পেলে যাব, নইলে যাব না।

ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সেলিনা পারভিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ওই জমি বাদী-বিবাদী কারও দখলে নেই। এ মতামতের চ্যালেঞ্জ করলে তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে দেখে বলতে হবে। একপর্যায়ে মতামত দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে মিসকেস হওয়ার পরও শুনানি হয়নি। শুনানীর সময় যাচাই-বাছাই করা হবে।

চলতি বছরের শুরুতে নিজের কার্যালয়ে বসে ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সেলিনা পারভিনের আর্থিক লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল।