গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৬নং সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দ তালিকা প্রকাশ করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে
বুধবার ৮ এপ্রিল দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নাম, বরাদ্দের পরিমাণ এবং কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন
চেয়ারম্যান স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ জবাবদিহিতা। ৬নং সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পগুলোর নাম ও বরাদ্দের পরিমাণ নিম্নে দেওয়া হলো। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। আপনারা নিজেরা কাজ বুঝে নেবেন। ধন্যবাদ
চেয়ারম্যানের এই খোলামেলা পদক্ষেপে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। তারা জানান আগে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে প্রায়ই অজানা থাকত। এবার তারা সহজেই জানতে পারছেন কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ এসেছে কোথায় কোন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে এবং কখন কাজ শুরু হবে। এতে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে
স্থানীয়দের মতে, চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের উদ্যোগ অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদ ও জনপ্রতিনিধিদের জন্য অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত। এমন স্বচ্ছতা অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ কমায় এবং সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী মো. লুৎফর বকসি প্রশ্ন তুলেছেন
যদি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৬নং সর্বানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিআর-কাবিখার বরাদ্দ তালিকা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন তাহলে অন্যান্য ইউনিয়নের বরাদ্দের তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছায় না কেন
অনেকে এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে সব ইউনিয়নে একই ধরনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সাধারণ নাগরিকরা মনে করছেন এ ধরনের উদ্যোগ শুধু তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করে না বরং জনগণকে উন্নয়ন কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগও তৈরি করে
চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম বলে, জনগণের টাকায় পরিচালিত উন্নয়ন কাজের হিসাব জনগণের কাছে স্পষ্ট থাকা উচিত। তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পের তালিকা ও বরাদ্দ প্রকাশ করেছি। এতে মানুষ সহজেই জানতে পারবে কোথায় কী কাজ হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তারা নিজেই তা তদারকি করতে পারবে। আমি চাই আমার ইউনিয়নে কোনো কাজ গোপনে নয়—সবকিছু হোক সবার সামনে
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রতিনিধিরা যদি এভাবে উদ্যোগ নিয়ে প্রকল্পের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করেন তাহলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ কমে আসবে। এমন উদ্যোগ স্থানীয় সুশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে
হাবিবুল্লাহ সরকার, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 




















