বাংলাদেশ ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ Logo ইউএনওর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভ, সেই নারীর বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা Logo মণিরামপুরে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন Logo ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়ামকে ফোনে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ Logo চাটমোহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড Logo পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ Logo নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সহকারী শিক্ষিকার বদলির দাবিতে মানববন্ধন Logo সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু Logo তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদনের দাবিতে পাঁচ জেলায় গণসমাবেশ Logo এক আইডিতে মিলবে সব সেবা

মূল্যস্ফীতিই বড় চ্যালেঞ্জ আগামী বাজেটে: অর্থনীতিতে চাপ বহুমুখী

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা, যেখানে মূল সমস্যা হিসেবে সামনে এসেছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এর পাশাপাশি রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধিও অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মূল্যস্ফীতির প্রভাব স্পষ্ট। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে শিল্প, কৃষি ও পরিবহন খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে নিত্যপণ্যের দামে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে, যা ধাপে ধাপে খাদ্যসহ সব পণ্যের দামে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ প্রায় তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে, যা একাধিকবার দুই অঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

অন্যদিকে রাজস্ব খাতে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এনবিআরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই–মার্চ সময়ে শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর মিলিয়ে আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে। ফলে আগামী বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, নতুন বাজেট এমন সময়ে আসছে যখন একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে কম রাজস্ব আদায় এবং বিনিয়োগ সংকট অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, সরকার এখন বহুমুখী চাপে রয়েছে। একদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য বেতন কাঠামো পরিবর্তন মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করছে। রাজস্ব ঘাটতিও এখন প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য বড় চাপ।

অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক মনে করেন, আগামী বাজেটে মূল চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে অর্থ সরবরাহ বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট ও খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব সংকট ও বিনিয়োগ মন্দার কারণে অর্থনীতি একটি কঠিন সমীকরণের মধ্যে রয়েছে, যা কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

kalprakash.com/SS

বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
মূল্যস্ফীতিই বড় চ্যালেঞ্জ আগামী বাজেটে: অর্থনীতিতে চাপ বহুমুখী
জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় স্কুল ছুটির পর শ্রেণিকক্ষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

মূল্যস্ফীতিই বড় চ্যালেঞ্জ আগামী বাজেটে: অর্থনীতিতে চাপ বহুমুখী

প্রকাশিত: ০৪:০২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা, যেখানে মূল সমস্যা হিসেবে সামনে এসেছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এর পাশাপাশি রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধিও অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মূল্যস্ফীতির প্রভাব স্পষ্ট। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে শিল্প, কৃষি ও পরিবহন খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে নিত্যপণ্যের দামে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে, যা ধাপে ধাপে খাদ্যসহ সব পণ্যের দামে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ প্রায় তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে, যা একাধিকবার দুই অঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

অন্যদিকে রাজস্ব খাতে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এনবিআরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই–মার্চ সময়ে শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর মিলিয়ে আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে। ফলে আগামী বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, নতুন বাজেট এমন সময়ে আসছে যখন একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে কম রাজস্ব আদায় এবং বিনিয়োগ সংকট অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, সরকার এখন বহুমুখী চাপে রয়েছে। একদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য বেতন কাঠামো পরিবর্তন মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করছে। রাজস্ব ঘাটতিও এখন প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য বড় চাপ।

অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক মনে করেন, আগামী বাজেটে মূল চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে অর্থ সরবরাহ বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট ও খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব সংকট ও বিনিয়োগ মন্দার কারণে অর্থনীতি একটি কঠিন সমীকরণের মধ্যে রয়েছে, যা কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

kalprakash.com/SS

বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
মূল্যস্ফীতিই বড় চ্যালেঞ্জ আগামী বাজেটে: অর্থনীতিতে চাপ বহুমুখী