বাংলাদেশ ১০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৭ Logo অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান: শীর্ষ জুয়ারীসহ গ্রেফতার ১৫ Logo লামায় থামছেই না অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম, প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ Logo রাস্তার পাশে ছোট্ট কুটিরে বৃদ্ধ দম্পতির মানবেতর জীবন Logo তেজগাঁও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল Logo গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মালিকানার সংকট Logo নবনিযুক্ত কুবি উপাচার্যকে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের শুভেচ্ছা Logo নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষকদলের কমিটি গঠন, আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য সচিব সবুর Logo পাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম Logo স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, দম্পতির ওপর হামলা

মূল্যস্ফীতিই বড় চ্যালেঞ্জ আগামী বাজেটে: অর্থনীতিতে চাপ বহুমুখী

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা, যেখানে মূল সমস্যা হিসেবে সামনে এসেছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এর পাশাপাশি রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধিও অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মূল্যস্ফীতির প্রভাব স্পষ্ট। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে শিল্প, কৃষি ও পরিবহন খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে নিত্যপণ্যের দামে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে, যা ধাপে ধাপে খাদ্যসহ সব পণ্যের দামে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ প্রায় তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে, যা একাধিকবার দুই অঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

অন্যদিকে রাজস্ব খাতে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এনবিআরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই–মার্চ সময়ে শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর মিলিয়ে আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে। ফলে আগামী বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, নতুন বাজেট এমন সময়ে আসছে যখন একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে কম রাজস্ব আদায় এবং বিনিয়োগ সংকট অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, সরকার এখন বহুমুখী চাপে রয়েছে। একদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য বেতন কাঠামো পরিবর্তন মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করছে। রাজস্ব ঘাটতিও এখন প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য বড় চাপ।

অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক মনে করেন, আগামী বাজেটে মূল চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে অর্থ সরবরাহ বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট ও খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব সংকট ও বিনিয়োগ মন্দার কারণে অর্থনীতি একটি কঠিন সমীকরণের মধ্যে রয়েছে, যা কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৭

মূল্যস্ফীতিই বড় চ্যালেঞ্জ আগামী বাজেটে: অর্থনীতিতে চাপ বহুমুখী

প্রকাশিত: ০৪:০২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা, যেখানে মূল সমস্যা হিসেবে সামনে এসেছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এর পাশাপাশি রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধিও অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মূল্যস্ফীতির প্রভাব স্পষ্ট। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে শিল্প, কৃষি ও পরিবহন খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাজারে নিত্যপণ্যের দামে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে, যা ধাপে ধাপে খাদ্যসহ সব পণ্যের দামে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ প্রায় তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে, যা একাধিকবার দুই অঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

অন্যদিকে রাজস্ব খাতে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এনবিআরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই–মার্চ সময়ে শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর মিলিয়ে আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৯৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে। ফলে আগামী বাজেটে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, নতুন বাজেট এমন সময়ে আসছে যখন একদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে কম রাজস্ব আদায় এবং বিনিয়োগ সংকট অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, সরকার এখন বহুমুখী চাপে রয়েছে। একদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সম্ভাব্য বেতন কাঠামো পরিবর্তন মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াতে পারে, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করছে। রাজস্ব ঘাটতিও এখন প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য বড় চাপ।

অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক মনে করেন, আগামী বাজেটে মূল চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে অর্থ সরবরাহ বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকট ও খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব সংকট ও বিনিয়োগ মন্দার কারণে অর্থনীতি একটি কঠিন সমীকরণের মধ্যে রয়েছে, যা কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

kalprakash.com/SS