সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুসম্পর্ক (সিভিল-মিলিটারি রিলেশন) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তিনি বলেন, “যে রাষ্ট্রের সিভিল-মিলিটারি সম্পর্কে ফাটল থাকে, সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা কখনো স্থায়ী হয় না।”
জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং প্রতিরক্ষা সচিব উপস্থিত ছিলেন।
ডিসিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বর্তমান সরকারের প্রতিরক্ষা নীতি, জাতীয় নিরাপত্তার বহুমাত্রিক দিক এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিভিন্ন দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।
সশস্ত্র বাহিনী জনগণের বাহিনী
তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী এ দেশের জনগণের বাহিনী। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে যেকোনো দুর্যোগে তারা জনগণের পাশে থেকেছে এবং আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে সশস্ত্র বাহিনী বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভূমিকা রেখেছে।
জাতীয় নিরাপত্তার নতুন বাস্তবতা
উপদেষ্টা জানান, জাতীয় নিরাপত্তা এখন শুধু ভূখণ্ডগত সুরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সাইবার হামলা, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, তথ্যযুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক চাপও এর অংশ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, ‘টোটাল পিপল ওয়ার’ ধারণাকে পুনরায় কার্যকর করা হচ্ছে এবং বিএনসিসি ও আনসার-ভিডিপিকে সমন্বিত করে একটি আধুনিক প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
শব্দচয়ন নিয়ে সতর্কতা
ডিসিদের উদ্দেশে তিনি বিদেশি কিছু পরিভাষা ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, বাংলাদেশ একটি সহনশীল সমাজ, যেখানে ধর্মীয় ও সামাজিক সহাবস্থান বিদ্যমান।
সৈনিকদের প্রতি সম্মান
তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ‘ইউনিফর্ম পরিহিত নাগরিক’। তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে।
দুর্নীতি ও জিরো টলারেন্স
তিনি সতর্ক করে বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কেউ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকতে পারবে না। সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
সবশেষে তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি ধারণ করে একটি ঐক্যবদ্ধ, স্থিতিশীল ও বিভাজনমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 






















