বাংলাদেশ ০৫:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo তেজগাঁও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল Logo গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মালিকানার সংকট Logo নবনিযুক্ত কুবি উপাচার্যকে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের শুভেচ্ছা Logo নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষকদলের কমিটি গঠন, আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য সচিব সবুর Logo পাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম Logo স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, দম্পতির ওপর হামলা Logo চিতলমারীতে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন, কৃষকের ধান কিনছে সরকার Logo তৃণমূল সাংবাদিকদের সংগঠন এসএসপির নেতৃত্বে মজনু-আবিদ Logo যোগদানের আগেই বেরোবির নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল Logo ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পাচ্ছেন কুবির ১৬ শিক্ষার্থী

ডলারের বাজারে ইয়েনের প্রভাব, বৈশ্বিক অস্থিরতায় মুদ্রাবাজারে বাড়ছে চাপ

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সংকট ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে মুদ্রাবাজারেও দেখা দিয়েছে ওঠানামা। এর মধ্যেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের অবস্থান আবারও আলোচনায় এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ইয়েন ডলারের কাছাকাছি দুর্বল অবস্থানে ঘোরাফেরা করছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সম্ভাব্য সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ডলার-ইউরো-পাউন্ডে ওঠানামা

সাম্প্রতিক লেনদেনে ডলারের বিপরীতে ইউরো ০.০৭ শতাংশ কমে ১.১৭০৫ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে ব্রিটিশ পাউন্ড ০.০৫ শতাংশ কমে ১.৩৫১৩ ডলারে অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইউরোপীয় ও এশীয় মুদ্রাগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

ফেডের সিদ্ধান্তের দিকে নজর

বিনিয়োগকারীদের এখন মূল নজর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সিদ্ধান্তের দিকে। অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করছেন, সুদের হার অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়েও বাজারে জল্পনা চলছে।

তেলের দাম ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব

চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম টানা অষ্টম দিনের মতো বাড়ছে। ব্যারেলপ্রতি দাম প্রায় ১১২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা আরও বাড়াচ্ছে, কারণ অনিশ্চয়তার সময়ে ডলারকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইয়েনের দুর্বলতা ও হস্তক্ষেপের আশঙ্কা

ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েন বর্তমানে প্রায় ১৫৯.৬৩ পর্যায়ে অবস্থান করছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে আরও দুর্বল হয়েছে, যার পেছনে জ্বালানি আমদানিনির্ভর মূল্যস্ফীতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্যাংক অব জাপান সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও ইয়েন এখনো শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে পারেনি। ফলে ১৬০-এর কাছাকাছি অবস্থানকে বাজারে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েনের পতন হয়তো পুরোপুরি থামবে না, তবে বড় ধরনের ধসের সম্ভাবনা আপাতত সীমিত।

সার্বিক পরিস্থিতি

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের চাপ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তা মিলিয়ে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজার এখন এক জটিল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। এই অবস্থায় ডলারের শক্ত অবস্থান বজায় থাকলেও ইয়েন ও অন্যান্য এশীয় মুদ্রার ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল

ডলারের বাজারে ইয়েনের প্রভাব, বৈশ্বিক অস্থিরতায় মুদ্রাবাজারে বাড়ছে চাপ

প্রকাশিত: ০৭:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সংকট ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে মুদ্রাবাজারেও দেখা দিয়েছে ওঠানামা। এর মধ্যেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের অবস্থান আবারও আলোচনায় এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ইয়েন ডলারের কাছাকাছি দুর্বল অবস্থানে ঘোরাফেরা করছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সম্ভাব্য সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ডলার-ইউরো-পাউন্ডে ওঠানামা

সাম্প্রতিক লেনদেনে ডলারের বিপরীতে ইউরো ০.০৭ শতাংশ কমে ১.১৭০৫ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে ব্রিটিশ পাউন্ড ০.০৫ শতাংশ কমে ১.৩৫১৩ ডলারে অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইউরোপীয় ও এশীয় মুদ্রাগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

ফেডের সিদ্ধান্তের দিকে নজর

বিনিয়োগকারীদের এখন মূল নজর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সিদ্ধান্তের দিকে। অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করছেন, সুদের হার অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়েও বাজারে জল্পনা চলছে।

তেলের দাম ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব

চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম টানা অষ্টম দিনের মতো বাড়ছে। ব্যারেলপ্রতি দাম প্রায় ১১২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা আরও বাড়াচ্ছে, কারণ অনিশ্চয়তার সময়ে ডলারকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইয়েনের দুর্বলতা ও হস্তক্ষেপের আশঙ্কা

ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েন বর্তমানে প্রায় ১৫৯.৬৩ পর্যায়ে অবস্থান করছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ে আরও দুর্বল হয়েছে, যার পেছনে জ্বালানি আমদানিনির্ভর মূল্যস্ফীতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্যাংক অব জাপান সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও ইয়েন এখনো শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে পারেনি। ফলে ১৬০-এর কাছাকাছি অবস্থানকে বাজারে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েনের পতন হয়তো পুরোপুরি থামবে না, তবে বড় ধরনের ধসের সম্ভাবনা আপাতত সীমিত।

সার্বিক পরিস্থিতি

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের চাপ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তা মিলিয়ে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজার এখন এক জটিল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। এই অবস্থায় ডলারের শক্ত অবস্থান বজায় থাকলেও ইয়েন ও অন্যান্য এশীয় মুদ্রার ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

kalprakash.com/SS