বাংলাদেশ ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo মুক্তিযুদ্ধে বাংলার নদ-নদী ও প্রকৃতি ছিল অকুতোভয় সহযোদ্ধা Logo জবি ছাত্রদলের ১০ দিনের আল্টিমেটাম: দখলকৃত হল পুনরুদ্ধারে কঠোর বার্তা Logo হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব তিথিতে লক্ষিখালীতে বারুণীস্নান ও মতুয়া মেলা Logo রক্তাক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, পারিবারিক বিরোধে হামলার অভিযোগ Logo বাগমারায় অবৈধভাবে ৬৫০ লিটার জ্বালানি মজুত, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা Logo কুবির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা Logo মুনাফা কমে নোকিয়া ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে Logo রিজিকের বরকত বৃদ্ধির জন্য করণীয়: ইস্তিগফার, দরুদ, সদকা ও তাকওয়া Logo বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব: সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন দিন অনলাইনে, তিন দিন সশরীরে ক্লাস Logo অবৈধ সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রা: বাংলাদেশিরা মানবপাচার ও নির্যাতনের শিকার

তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক সাহসী ও পরীক্ষিত নারী নেত্রী সুফিয়া বেগম

তৃণমূল থেকে উঠে আসা সাহসী ও পরীক্ষিত নারী নেত্রী সুফিয়া বেগম বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কুমিল্লা উত্তর জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেত্রী দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় অসংখ্য হামলা-মামলা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে নিজেকে একজন জননন্দিত নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

শিক্ষা ও প্রারম্ভিক জীবন
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর এলাকার সন্তান সুফিয়া বেগম শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি বড়শালঘর বেগম নুরুন্নাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি এবং অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে বড়শালঘর মফিজ উদ্দিন আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৯৫ সালে দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স এবং কুমিল্লা বিএড কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন।

পেশাজীবন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা
২০০৬ সালে দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর এলাকায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন সুফিয়া বেগম। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে বিদ্যালয়ের সরকারি বই ও সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া এবং একাধিক মামলা দায়েরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয়। তবে কোনো বাধা ও প্রতিকূলতাই তাকে আদর্শচ্যুত করতে পারেনি।

নির্বাচনী সাফল্য ও সাংগঠনিক ভূমিকা
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত সুফিয়া বেগম ২০১৪ সালে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পান। ওই নির্বাচনে তিনি প্রায় ৯৮ হাজার ভোট পেয়ে জাতীয়ভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের ১১টি ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামো বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী। দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও দেবিদ্বারসহ বিভিন্ন স্থানে হরতাল ও রাজপথের কর্মসূচিতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন।

আন্দোলন-সংগ্রাম ও মানবিক কার্যক্রম
দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ২০২৩ সালে জেলা বিএনপির পদযাত্রায় পুলিশের গুলি ও লাঠিচার্জে তিনি গুরুতর আহত হন এবং বিস্ফোরক মামলায় অভিযুক্ত হন। একাধিক মামলার আসামি হয়েও দলের কার্যক্রম থেকে তিনি পিছপা হননি। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকে নিহত ও আহতদের পরিবার এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এছাড়া বন্যা, অগ্নিকাণ্ড ও করোনা মহামারির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আর্তমানবতার সেবায় তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ এবং সংখ্যালঘু ও অসহায় পরিবারের সহায়তায় তিনি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করছেন।

শিক্ষা, আদর্শ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই নেতৃত্ব জনতার আস্থা ও সংগঠনের শক্তিকে সঙ্গী করে আগামীর পথে এগিয়ে চলেছেন সুফিয়া বেগম।

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধে বাংলার নদ-নদী ও প্রকৃতি ছিল অকুতোভয় সহযোদ্ধা

তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক সাহসী ও পরীক্ষিত নারী নেত্রী সুফিয়া বেগম

প্রকাশিত: ০৪:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তৃণমূল থেকে উঠে আসা সাহসী ও পরীক্ষিত নারী নেত্রী সুফিয়া বেগম বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কুমিল্লা উত্তর জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেত্রী দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় অসংখ্য হামলা-মামলা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে নিজেকে একজন জননন্দিত নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

শিক্ষা ও প্রারম্ভিক জীবন
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর এলাকার সন্তান সুফিয়া বেগম শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তিনি বড়শালঘর বেগম নুরুন্নাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি এবং অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে বড়শালঘর মফিজ উদ্দিন আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৯৫ সালে দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স এবং কুমিল্লা বিএড কলেজ থেকে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন।

পেশাজীবন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা
২০০৬ সালে দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর এলাকায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন সুফিয়া বেগম। ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে বিদ্যালয়ের সরকারি বই ও সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া এবং একাধিক মামলা দায়েরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করা হয়। তবে কোনো বাধা ও প্রতিকূলতাই তাকে আদর্শচ্যুত করতে পারেনি।

নির্বাচনী সাফল্য ও সাংগঠনিক ভূমিকা
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত সুফিয়া বেগম ২০১৪ সালে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পান। ওই নির্বাচনে তিনি প্রায় ৯৮ হাজার ভোট পেয়ে জাতীয়ভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের ১১টি ইউনিটের সাংগঠনিক কাঠামো বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী। দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও দেবিদ্বারসহ বিভিন্ন স্থানে হরতাল ও রাজপথের কর্মসূচিতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন।

আন্দোলন-সংগ্রাম ও মানবিক কার্যক্রম
দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ২০২৩ সালে জেলা বিএনপির পদযাত্রায় পুলিশের গুলি ও লাঠিচার্জে তিনি গুরুতর আহত হন এবং বিস্ফোরক মামলায় অভিযুক্ত হন। একাধিক মামলার আসামি হয়েও দলের কার্যক্রম থেকে তিনি পিছপা হননি। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকে নিহত ও আহতদের পরিবার এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এছাড়া বন্যা, অগ্নিকাণ্ড ও করোনা মহামারির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে আর্তমানবতার সেবায় তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ এবং সংখ্যালঘু ও অসহায় পরিবারের সহায়তায় তিনি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করছেন।

শিক্ষা, আদর্শ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এই নেতৃত্ব জনতার আস্থা ও সংগঠনের শক্তিকে সঙ্গী করে আগামীর পথে এগিয়ে চলেছেন সুফিয়া বেগম।