যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের ৫৮তম দিনে শান্তি আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। প্রায় দুই মাস ধরে চলা সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, কারণ উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে নারাজ।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেন, যা শান্তি প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তান সফর শেষে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে একটি সম্ভাব্য সমাধান কাঠামো উপস্থাপন করেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, তেহরান থেকে আসা নতুন শান্তি প্রস্তাব ওয়াশিংটন প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে সংঘাতের প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়ছে, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
শান্তি চুক্তিতে প্রধান পাঁচ বাধা
পারমাণবিক কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করুক। তবে ইরান বলছে, এটি কেবল সাময়িকভাবে সীমিত করা যেতে পারে, স্থায়ীভাবে নয়।
ইউরেনিয়াম মজুত
ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় এটি তাদের নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তর করা হোক, যা ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।
হরমুজ প্রণালি ও বন্দর অবরোধ
ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে হরমুজ প্রণালিতে সীমাবদ্ধতা বহাল থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, আগে চুক্তি, পরে অবরোধ প্রত্যাহার।
আটকে থাকা অর্থ
ইরান প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিদেশে আটকে থাকা অর্থ ফেরত চায় এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ
তেহরান দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ক্ষতির জন্য প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
kalprakash.com/SS
কাল প্রকাশ 























