বাংলাদেশ ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo আমরা এনেছি লাল কার্ড: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী Logo শেরপুরে পুলিশের জালে মাদক কারবারি, উদ্ধার ৬৭৫ ইয়াবা Logo গাইবান্ধায় এক কুকুরের কামড়ে ৪ জনের মৃত্যু Logo বাগমারায় উন্নয়ন কমিটি ঘোষনা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় সাংসদের মতবিনিময় Logo ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন পাবিপ্রবির ৩৮ শিক্ষার্থী Logo ‘চলচ্চিত্রে কিছু মশা জন্মেছে’—কার দিকে ইঙ্গিত ওমর সানীর? Logo মুক্তির এক দিন আগে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সেন্সর সনদ বাতিল Logo ফুলপ্রেমী কেয়া আর স্বপ্নবাজ তৌসিফের ‘অবশেষে তুমি এলে’ Logo আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে বড় উন্নতি শান্ত-নাহিদের

অভিযোগের মুখে সংগীত কলেজের শিক্ষক, প্রশাসনের ভাষ্য ‘ভুল বোঝাবুঝি’

রাজধানীর সরকারি সংগীত কলেজের এক শিক্ষককে ঘিরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনা, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঘটনা সামনে এসেছে।

লোকসংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এম,এম, ইউনুছুর রহমান-এর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, অসদাচরণ ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক।

শিক্ষার্থীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের প্রতি অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন এবং ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন পোস্ট করেছেন। যার স্ক্রিনশট ও ভিডিও প্রমাণ শিক্ষার্থীদের নিকট রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

গত রবিবার (২০ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে কলেজে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এক শিক্ষার্থী ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য গেট খুলতে চাইলে দারোয়ানকে তা না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ওই সময় কলেজের ভেতরে বহিরাগতদের উপস্থিতি ছিল। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজও তাদের কাছে রয়েছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক শেরে বাংলা নগর থানায় যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি কলেজের অভ্যন্তরীণ বলে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে চলে যায়।

অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মুঠোফোনে সাংবাদিককে জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমি নিরাপত্তার দিক চিন্তা করে থানায় অভিযোগ করেছি। যেন বিষয়টি উক্ত থানায় সমাধান হয়ে যায়। আর যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে তাদের বিষয়গুলো আরেকবার যাচাই করে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ নাদিয়া সোমা মুঠোফোনে বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর অভিমান করেছে। একজন শিক্ষার্থী বাথরুমে যেতে চাইলে দারোয়ান আমাকে ফোন করেছিল, তবে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে কথা বলা যায়নি। তিনি আরও জানান, কলেজের এক স্টাফের সঙ্গে একজন বহিরাগত প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করেই শিক্ষার্থীরা বিষয়টি ইস্যু হিসেবে নিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখালেখির বিষয়ে তিনি বলেন, ওরা আমাদেরই ছাত্র, অভিমান থেকেই হয়তো এসব লিখছে। আমরা চাই না আমাদের কলেজ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মানহানি হোক।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষকরা ছাত্রদের সঙ্গে বেশি বন্ধুর মতো চলার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের নিজেদের ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে চলা উচিত।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে তিনি বলেন, লেখালেখির কারণে যদি তিনি এমনটি করে থাকেন, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তার রয়েছে। তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন ঘটনা অভিমান থেকেই সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

তেজগাঁও কলেজে বিএমবি ডিপার্টমেন্ট প্রধানের হজ্জ যাত্রায় দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত

অভিযোগের মুখে সংগীত কলেজের শিক্ষক, প্রশাসনের ভাষ্য ‘ভুল বোঝাবুঝি’

প্রকাশিত: ০৭:০৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর সরকারি সংগীত কলেজের এক শিক্ষককে ঘিরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনা, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঘটনা সামনে এসেছে।

লোকসংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এম,এম, ইউনুছুর রহমান-এর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, অসদাচরণ ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক।

শিক্ষার্থীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের প্রতি অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন এবং ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন পোস্ট করেছেন। যার স্ক্রিনশট ও ভিডিও প্রমাণ শিক্ষার্থীদের নিকট রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

গত রবিবার (২০ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে কলেজে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এক শিক্ষার্থী ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য গেট খুলতে চাইলে দারোয়ানকে তা না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ওই সময় কলেজের ভেতরে বহিরাগতদের উপস্থিতি ছিল। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজও তাদের কাছে রয়েছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক শেরে বাংলা নগর থানায় যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি কলেজের অভ্যন্তরীণ বলে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে চলে যায়।

অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক মুঠোফোনে সাংবাদিককে জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমি নিরাপত্তার দিক চিন্তা করে থানায় অভিযোগ করেছি। যেন বিষয়টি উক্ত থানায় সমাধান হয়ে যায়। আর যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে তাদের বিষয়গুলো আরেকবার যাচাই করে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ নাদিয়া সোমা মুঠোফোনে বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর অভিমান করেছে। একজন শিক্ষার্থী বাথরুমে যেতে চাইলে দারোয়ান আমাকে ফোন করেছিল, তবে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে কথা বলা যায়নি। তিনি আরও জানান, কলেজের এক স্টাফের সঙ্গে একজন বহিরাগত প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করেই শিক্ষার্থীরা বিষয়টি ইস্যু হিসেবে নিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখালেখির বিষয়ে তিনি বলেন, ওরা আমাদেরই ছাত্র, অভিমান থেকেই হয়তো এসব লিখছে। আমরা চাই না আমাদের কলেজ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মানহানি হোক।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষকরা ছাত্রদের সঙ্গে বেশি বন্ধুর মতো চলার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের নিজেদের ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে চলা উচিত।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়ে তিনি বলেন, লেখালেখির কারণে যদি তিনি এমনটি করে থাকেন, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তার রয়েছে। তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন ঘটনা অভিমান থেকেই সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।