মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়া অঙ্গরাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ও তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতরা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর সদস্য ছিলেন কি না, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার ভোরে একটি মাদকবিরোধী অভিযানের পর ফেরার পথে তাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার গভীর খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ও ফেডারেল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তারা মেক্সিকোর স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে একটি মাদক ল্যাব ধ্বংসের অভিযানে সহযোগিতা করছিলেন। তবে এই তথ্য ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও আইনগত জটিলতা।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবম জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো যৌথ অভিযানের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আগে থেকে অবগত ছিল না। তিনি বলেন, বিষয়টি সংবিধান ও জাতীয় নিরাপত্তা আইনের লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
মেক্সিকোর আইন অনুযায়ী, বিদেশি সংস্থার কোনো ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনার আগে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি বাধ্যতামূলক।
অন্যদিকে চিহুয়াহুয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল দাবি করেছেন, মার্কিন কর্মকর্তারা সরাসরি অভিযানে অংশ নেননি, বরং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তবে তার দপ্তরের আগের বিবৃতি ও পরবর্তী বক্তব্যের মধ্যে অসংগতি থাকায় বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।
মার্কিন দূতাবাস দুই কর্মকর্তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তাদের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযান ও সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে উত্তেজনা চলমান। বিশেষ করে বিদেশি সংস্থার হস্তক্ষেপ নিয়ে মেক্সিকোর রাজনৈতিক অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্ঘটনা শুধু একটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়, বরং দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















