যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করা আফগান মিত্ররা এখন নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। কাতারে থাকা শতাধিক আফগান শরণার্থীকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন এখন বিকল্প পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বর্তমানে ১,১০০ জনেরও বেশি আফগান অবস্থান করছেন। তারা ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর নিরাপত্তার আশায় সেখানে স্থানান্তরিত হন। এসব ব্যক্তি আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন, ফলে তালেবান শাসনের অধীনে দেশে ফেরার ঝুঁকি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
আন্দোলনকর্মীদের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন তাদের জন্য দুটি বিকল্প বিবেচনা করছে—একটি হলো আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে পুনর্বাসন, অন্যটি হলো আফগানিস্তানে ফিরে যাওয়া।
তবে আফগান শরণার্থী সহায়তা সংগঠন আফগানইভ্যাক-এর প্রধান শন ভ্যানডাইভার বলেছেন, এই দুই বিকল্পই বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, কঙ্গো নিজেই দীর্ঘদিনের সংঘাত ও মানবিক সংকটে জর্জরিত, ফলে সেখানে স্থানান্তর কোনো নিরাপদ সমাধান নয়। পাশাপাশি আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।
তিনি আরও জানান, এই শিবিরে অন্তত ৪০০ শিশু রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট সরাসরি কঙ্গো গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করেনি, তবে জানিয়েছে যে তৃতীয় কোনো দেশে স্বেচ্ছামূলক পুনর্বাসনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বিতর্ক রয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন এই পরিকল্পনাকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে এটিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, যেসব আফগান যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তাদের প্রতি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বিশ্লেষকদের মতে, আফগান মিত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যার কারণে মানবিক সংকটের ঝুঁকি বাড়ছে।
kalprakash.com/SS
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















