বাংলাদেশ ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo বেরোবির নতুন উপাচার্য ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান Logo নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন Logo কুবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফুল করীম Logo আড়াই মাস পর খুলল হরমুজ প্রণালি, চীনের জাহাজগুলোকে সীমিত অনুমতি দিল ইরান Logo ট্রাম্প–শি জিনপিং বৈঠকে ইরান ইস্যুতে ঐকমত্য, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত Logo ঈদযাত্রায় ঝুঁকি এড়াতে বিআইডব্লিউটিএর ১৬ দফা নির্দেশনা Logo ঈদের ছুটি পাবেন না যারা, কোন কোন পেশা থাকছে আওতার বাইরে Logo শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তার, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও মাদক জব্দ Logo বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারেন মেসি-রোনালদো Logo ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি

সমুদ্রপথে রোহিঙ্গা ট্র্যাজেডি: এক বছরে মৃত বা নিখোঁজ প্রায় ৯০০

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিবেদন।

আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে উন্নত জীবনের আশায় যাত্রা করতে গিয়ে ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন—এ তথ্য জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি বলছে, গত বছরটি ছিল সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সময়।

শুক্রবার ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে সমুদ্রযাত্রার চেষ্টা করেন। এদের মধ্যে প্রতি সাতজনের অন্তত একজন প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।

চলতি বছরেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বছরের প্রথম সাড়ে তিন মাসেই ২৮০০-এর বেশি রোহিঙ্গা ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করেছেন।

সংস্থাটির মুখপাত্র বাবর বালোচ এক বিবৃতিতে জানান, বিশ্বব্যাপী শরণার্থী ও অভিবাসীদের ব্যবহৃত সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরেই মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। তার ভাষায়, ২০২৫ সাল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রযাত্রার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি টেকনাফ উপকূল থেকে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এখনও ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ২৮০ জন যাত্রী নিয়ে রওনা হওয়া ওই ট্রলারের অধিকাংশ আরোহীর পরিণতি এখনো অজানা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় অংশ নেওয়া রোহিঙ্গাদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে দালালচক্রের মাধ্যমে জরাজীর্ণ নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী তুলে তাদের সমুদ্রে পাঠানো হচ্ছে।

মাঝসমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হওয়া, খাদ্য ও পানির সংকট কিংবা নৌকাডুবির মতো ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও থামছে না এই দেশান্তরের চেষ্টা।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দিচ্ছে জাতিসংঘ। তবে এই মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে পাচার ও শোষণ বন্ধে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছে সংস্থাটি।

kalprakash.com/SS
জনপ্রিয় সংবাদ

বেরোবির নতুন উপাচার্য ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান

সমুদ্রপথে রোহিঙ্গা ট্র্যাজেডি: এক বছরে মৃত বা নিখোঁজ প্রায় ৯০০

প্রকাশিত: ১১:০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে উন্নত জীবনের আশায় যাত্রা করতে গিয়ে ২০২৫ সালে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন—এ তথ্য জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি বলছে, গত বছরটি ছিল সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সময়।

শুক্রবার ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে সমুদ্রযাত্রার চেষ্টা করেন। এদের মধ্যে প্রতি সাতজনের অন্তত একজন প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।

চলতি বছরেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বছরের প্রথম সাড়ে তিন মাসেই ২৮০০-এর বেশি রোহিঙ্গা ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার উদ্দেশে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে যাত্রা করেছেন।

সংস্থাটির মুখপাত্র বাবর বালোচ এক বিবৃতিতে জানান, বিশ্বব্যাপী শরণার্থী ও অভিবাসীদের ব্যবহৃত সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরেই মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। তার ভাষায়, ২০২৫ সাল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রযাত্রার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি টেকনাফ উপকূল থেকে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এখনও ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ২৮০ জন যাত্রী নিয়ে রওনা হওয়া ওই ট্রলারের অধিকাংশ আরোহীর পরিণতি এখনো অজানা।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় অংশ নেওয়া রোহিঙ্গাদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে দালালচক্রের মাধ্যমে জরাজীর্ণ নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী তুলে তাদের সমুদ্রে পাঠানো হচ্ছে।

মাঝসমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হওয়া, খাদ্য ও পানির সংকট কিংবা নৌকাডুবির মতো ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও থামছে না এই দেশান্তরের চেষ্টা।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দিচ্ছে জাতিসংঘ। তবে এই মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে পাচার ও শোষণ বন্ধে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছে সংস্থাটি।

kalprakash.com/SS