বাংলাদেশ ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo বেরোবির নতুন উপাচার্য ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান Logo নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন Logo কুবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফুল করীম Logo আড়াই মাস পর খুলল হরমুজ প্রণালি, চীনের জাহাজগুলোকে সীমিত অনুমতি দিল ইরান Logo ট্রাম্প–শি জিনপিং বৈঠকে ইরান ইস্যুতে ঐকমত্য, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত Logo ঈদযাত্রায় ঝুঁকি এড়াতে বিআইডব্লিউটিএর ১৬ দফা নির্দেশনা Logo ঈদের ছুটি পাবেন না যারা, কোন কোন পেশা থাকছে আওতার বাইরে Logo শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তার, অস্ত্র-গোলাবারুদ ও মাদক জব্দ Logo বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারেন মেসি-রোনালদো Logo ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি

দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন উত্তেজনা, স্কারবরো শোলে চীনের নিয়ন্ত্রণ জোরদার

এবার নামলো চীন, আরেক সমুদ্রপথে অবরোধ (সংগৃহীত ছবি)

হরমুজ ইস্যুকে ঘিরে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্কারবরো শোল এলাকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে চীন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রবেশমুখে জাহাজ মোতায়েন এবং ভাসমান বাধা স্থাপনের মাধ্যমে অঞ্চলটিতে চীনের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, স্কারবরো শোলের প্রবেশপথে চারটি মাছ ধরার নৌকা, একটি চীনা কোস্টগার্ড বা নৌবাহিনীর জাহাজ এবং একটি ভাসমান ব্যারিয়ার অবস্থান করছে। এসব ছবি ১০ ও ১১ এপ্রিল তোলা হয়েছে।

এদিকে নিজেদের জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিলিপাইনও কোস্টগার্ড ও মৎস্য সহায়তা জাহাজ মোতায়েন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় আকারের চীনা টহল জাহাজ প্রায়ই ফিলিপিনো জেলেদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়।

ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জে টারিয়েলা জানিয়েছেন, ওই সময় স্কারবরো শোলের প্রবেশপথে প্রায় ৩৫২ মিটার দীর্ঘ ভাসমান বাধা স্থাপন করে চীন। তার দাবি অনুযায়ী, শোলের ভেতরে ও বাইরে একাধিক চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়া জাহাজ অবস্থান করছিল, যা প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে।

স্কারবরো শোল, যা ফিলিপাইনে বাহো দে মাসিনলোক এবং চীনে হুয়াংইয়ান দ্বীপ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য আহরণ এলাকা। এটি ফিলিপাইনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পড়লেও চীনও এর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।

গত বছর চীন সেখানে একটি জাতীয় প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণার অনুমোদন দেয়, যা ফিলিপাইনের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দখল বৈধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

ফিলিপাইন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে অন্তত ১০টি চীনা কোস্টগার্ড জাহাজ ওই এলাকায় দেখা গেছে।

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধ এখনো সমাধান হয়নি। ২০১২ সালের পর থেকে চীন কার্যত স্কারবরো শোলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকায় যৌথ সামরিক মহড়া চালায়, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের রায়ে দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধে ফিলিপাইনের অবস্থানকে সমর্থন করা হলেও স্কারবরো শোলের সার্বভৌমত্ব বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। আদালত তখন চীনের অবরোধকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

 

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

বেরোবির নতুন উপাচার্য ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান

দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন উত্তেজনা, স্কারবরো শোলে চীনের নিয়ন্ত্রণ জোরদার

প্রকাশিত: ০৫:১১:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ ইস্যুকে ঘিরে চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্কারবরো শোল এলাকায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে চীন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রবেশমুখে জাহাজ মোতায়েন এবং ভাসমান বাধা স্থাপনের মাধ্যমে অঞ্চলটিতে চীনের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, স্কারবরো শোলের প্রবেশপথে চারটি মাছ ধরার নৌকা, একটি চীনা কোস্টগার্ড বা নৌবাহিনীর জাহাজ এবং একটি ভাসমান ব্যারিয়ার অবস্থান করছে। এসব ছবি ১০ ও ১১ এপ্রিল তোলা হয়েছে।

এদিকে নিজেদের জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিলিপাইনও কোস্টগার্ড ও মৎস্য সহায়তা জাহাজ মোতায়েন করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় আকারের চীনা টহল জাহাজ প্রায়ই ফিলিপিনো জেলেদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়।

ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জে টারিয়েলা জানিয়েছেন, ওই সময় স্কারবরো শোলের প্রবেশপথে প্রায় ৩৫২ মিটার দীর্ঘ ভাসমান বাধা স্থাপন করে চীন। তার দাবি অনুযায়ী, শোলের ভেতরে ও বাইরে একাধিক চীনা সামুদ্রিক মিলিশিয়া জাহাজ অবস্থান করছিল, যা প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে।

স্কারবরো শোল, যা ফিলিপাইনে বাহো দে মাসিনলোক এবং চীনে হুয়াংইয়ান দ্বীপ নামে পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য আহরণ এলাকা। এটি ফিলিপাইনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পড়লেও চীনও এর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।

গত বছর চীন সেখানে একটি জাতীয় প্রাকৃতিক সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণার অনুমোদন দেয়, যা ফিলিপাইনের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দখল বৈধ করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

ফিলিপাইন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১২ এপ্রিলের মধ্যে অন্তত ১০টি চীনা কোস্টগার্ড জাহাজ ওই এলাকায় দেখা গেছে।

দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধ এখনো সমাধান হয়নি। ২০১২ সালের পর থেকে চীন কার্যত স্কারবরো শোলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকায় যৌথ সামরিক মহড়া চালায়, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের রায়ে দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধে ফিলিপাইনের অবস্থানকে সমর্থন করা হলেও স্কারবরো শোলের সার্বভৌমত্ব বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। আদালত তখন চীনের অবরোধকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছিল।

 

kalprakash.com/SS