বাংলাদেশ ০৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের ৫৫তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে পিসিসিপির শ্রদ্ধা ও আদর্শ ধারণের আহ্বান Logo বিএনপির এমপি হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণা Logo ১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি হয়েছে: নুরুল হক Logo চীনা স্যাটেলাইটে ইরানের লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা বেড়েছে বলে দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা Logo ‘পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে এনে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জনগণকে দেওয়া হবে’—তারেক রহমান Logo চিতলমারীতে ১৫ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা দিতে মাঠে নামল স্বাস্থ্য বিভাগ Logo পোশাক খাতে পডকাস্ট সিরিজ চালু করল বিজিএমইএ Logo বাংলাদেশে ১ কোটি ৫৩ লাখ ভিডিও সরাল টিকটক, কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘনের কারণে অপসারণ Logo সাংবাদিকের ডাকে ক্ষুব্ধ শ্রুতি হাসান, বললেন ‘আমি আপনার মা নাকি?’ Logo জুহি চাওলাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন সালমান খান, পুরোনো সাক্ষাৎকার ফের আলোচনায়

সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বান্দরবানে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের বিজু ও বিষু উৎসবের শুরু

সবার মঙ্গল কামনায় বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে ফুল বিজু পালন করলেন চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষ। এর মাধ্যমে পাহাড়ের এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হলো বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের আয়োজন।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান রোয়াংছড়ি বাস স্টেশন এলাকার সাঙ্গু নদীর ঘাটে শত শত তরুণ-তরুণী নদীতে ফুল ভাসান। এ ফুল বিজু পালনের মাধ্যমে তারা সর্বস্তরের মানুষের জন্য শুভেচ্ছা জানান।

ফুল বিজুর মাধ্যমে শুরু হয় পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণের আনুষ্ঠানিকতা।

পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর যে আয়োজন, তারই একটি অংশ হলো ফুল বিজু। বঙ্গাব্দ বর্ষপঞ্জির ২৯ চৈত্র তথা পহেলা বৈশাখের আগের দিন ফুল বিজুর মাধ্যমে শুরু হয় বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিকতা।

সূর্যোদয়ের আগেই সাঙ্গু নদীর তীরে ফুল ভাসাতে শতাধিক তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকমা সম্প্রদায়ের শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ভিড় করেন। তারা সকলের মঙ্গল কামনায় কলাপাতায় ভক্তি-শ্রদ্ধাভরে গঙ্গা দেবীর পূজা করেন। পরে দেবীর উদ্দেশে ফুল ভাসিয়ে পুরোনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরের শুভ কামনা করেন।

এ দিনে বন থেকে সংগ্রহ করা বিজু, মাধবীলতা, রঙ্গনসহ নানা রকমের ফুল নদীতে ভাসানো হয়। গঙ্গা দেবী ও উপগুপ্ত বুদ্ধের পূজা করেন চাকমা তরুণ-তরুণীরা। নদীর পাড়ে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে প্রার্থনাও করা হয়।

গঙ্গা দেবীর পূজার শেষে সকাল থেকে ঘরে ঘরে ২০ থেকে ৩০ ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি করা হয় ঐতিহ্যবাহী পাজন। নতুন পোশাক পরে একে অপরের বাসায় পাজন খেতে যান সবাই।

ফুল বিজুতে অংশ নেওয়া চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা তরুণ-তরুণীরা বলেন, ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে আমাদের বর্ষবরণের আয়োজন শুরু হয়। এই ফুল বিজুর মাধ্যমে গঙ্গা দেবীর মঙ্গল কামনায় এবং পুরোনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানাই আমরা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১টি সম্প্রদায়ের মধ্যে বম, লুসাই ও পাংখোয়া ছাড়া অন্য সব সম্প্রদায় ভিন্ন ভিন্ন নামে এই বৃহৎ সামাজিক উৎসব প্রতিবছর উদযাপন করে থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের ৫৫তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে পিসিসিপির শ্রদ্ধা ও আদর্শ ধারণের আহ্বান

সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বান্দরবানে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের বিজু ও বিষু উৎসবের শুরু

প্রকাশিত: ০১:১৬:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সবার মঙ্গল কামনায় বান্দরবানের সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে ফুল বিজু পালন করলেন চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষ। এর মাধ্যমে পাহাড়ের এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হলো বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের আয়োজন।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান রোয়াংছড়ি বাস স্টেশন এলাকার সাঙ্গু নদীর ঘাটে শত শত তরুণ-তরুণী নদীতে ফুল ভাসান। এ ফুল বিজু পালনের মাধ্যমে তারা সর্বস্তরের মানুষের জন্য শুভেচ্ছা জানান।

ফুল বিজুর মাধ্যমে শুরু হয় পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণের আনুষ্ঠানিকতা।

পুরোনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর যে আয়োজন, তারই একটি অংশ হলো ফুল বিজু। বঙ্গাব্দ বর্ষপঞ্জির ২৯ চৈত্র তথা পহেলা বৈশাখের আগের দিন ফুল বিজুর মাধ্যমে শুরু হয় বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিকতা।

সূর্যোদয়ের আগেই সাঙ্গু নদীর তীরে ফুল ভাসাতে শতাধিক তঞ্চঙ্গ্যা ও চাকমা সম্প্রদায়ের শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ভিড় করেন। তারা সকলের মঙ্গল কামনায় কলাপাতায় ভক্তি-শ্রদ্ধাভরে গঙ্গা দেবীর পূজা করেন। পরে দেবীর উদ্দেশে ফুল ভাসিয়ে পুরোনো বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরের শুভ কামনা করেন।

এ দিনে বন থেকে সংগ্রহ করা বিজু, মাধবীলতা, রঙ্গনসহ নানা রকমের ফুল নদীতে ভাসানো হয়। গঙ্গা দেবী ও উপগুপ্ত বুদ্ধের পূজা করেন চাকমা তরুণ-তরুণীরা। নদীর পাড়ে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে প্রার্থনাও করা হয়।

গঙ্গা দেবীর পূজার শেষে সকাল থেকে ঘরে ঘরে ২০ থেকে ৩০ ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি করা হয় ঐতিহ্যবাহী পাজন। নতুন পোশাক পরে একে অপরের বাসায় পাজন খেতে যান সবাই।

ফুল বিজুতে অংশ নেওয়া চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা তরুণ-তরুণীরা বলেন, ফুল বিজুর মধ্য দিয়ে আমাদের বর্ষবরণের আয়োজন শুরু হয়। এই ফুল বিজুর মাধ্যমে গঙ্গা দেবীর মঙ্গল কামনায় এবং পুরোনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানাই আমরা।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১টি সম্প্রদায়ের মধ্যে বম, লুসাই ও পাংখোয়া ছাড়া অন্য সব সম্প্রদায় ভিন্ন ভিন্ন নামে এই বৃহৎ সামাজিক উৎসব প্রতিবছর উদযাপন করে থাকে।