রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-এর নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে এক ব্যক্তি হাতেনাতে আটক হয়েছেন। তবে ঘটনাটির পরও তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের না হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ।
জানা গেছে, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা এক ব্যক্তির সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করে তাকে চিহ্নিত করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অন্য একজন পরীক্ষার্থীর হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন বলে স্বীকার করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে আটক করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, কলেজ কর্তৃপক্ষ বা পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা কেউ এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোন প্রকার অভিযোগ দায়ের করেননি।
পরীক্ষাকেন্দ্রে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, অভিযোগকারী না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলা দায়ের প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ে। এ কারণে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকে তবে প্রতারণা ও জালিয়াতির মতো অপরাধে রাষ্ট্র নিজ উদ্যোগেও মামলা করতে পারে।
এদিকে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল মনে করছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি সরবরাহ করে আসছে। তাদের দাবি, শুধুমাত্র একজনকে আটক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না—এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী বলেন, আমরা কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষা দিতে আসি। অথচ একটি চক্র টাকা নিয়ে অন্যকে বসিয়ে দিচ্ছে। এটা আমাদের প্রতি চরম অন্যায়।
আটককৃত অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে শের-ই-বাংলা নগর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তবে অভিযোগ বা মামলা করা না হলে পরবর্তীতে অভিযুক্তকে ডিএমপির নিকট হস্তান্তর করা হতে পারে বলে জানিয়েছে শের-ই-বাংলা নগর থানা পুলিশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















