কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশির ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য ও তাদের এক সোর্সকে ছিনতাইকারী সন্দেহে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নিয়ে মারধর করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করা হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টি ভুল-বোঝাবুঝি হিসেবে সমাধান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, টিউশন শেষে রেসকোর্সের একটি গলি দিয়ে ফেরার পথে পুলিশ পরিচয়ে দুই ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন। তল্লাশির নামে পকেটে হাত দেন তারা। পরিচয় জানতে চাইলে একজন পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের শার্টের কলার ধরেন। পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই ব্যক্তিরা পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের ছিনতাইকারী সন্দেহ হয়। পরে ঈদগাহ থেকে ছেড়ে আসা পুলিশ লাইনস হয়ে ক্যাম্পাসগামী সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার বাসে করে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, বাসটি ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ওই তিনজনকে মারধর করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।
পরে প্রক্টর অফিসে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস নিশ্চিত করেন, ওই তিনজনের মধ্যে দুজন কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ সদস্য এবং অন্যজন পুলিশের সোর্স।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা সাদা পোশাকে কৌশলে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশি করা হয়। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দেওয়ার পর তাদের ছেড়েও দেওয়া হয়। তবে এর মধ্যে তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অন্য শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের ওপর চড়াও হন। পরিচয় নিশ্চিত করার সুযোগ না দিয়ে জোরপূর্বক বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসে মারধর করা হয়।
রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশের উপস্থিতিতে প্রক্টর অফিসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটানো হয়।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শিক্ষার্থী ও পুলিশ উভয় পক্ষকে আরও সচেতন এবং পেশাদার আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে অনেক পুলিশ সদস্য সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করেন। বৃহস্পতিবারের ঘটনা শিক্ষার্থীরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারতেন। এভাবে কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়া যায় কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। এতে বাইরে ভুল বার্তা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ওসি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, তল্লাশির সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশের পরিচয়পত্র দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও বিষয়টি স্বীকার করেছে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বাক্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ওই তিনজনকে জোর করে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষেরই ভুল রয়েছে। সবার বক্তব্য শুনে যুক্তিসংগত অবস্থানে এসে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।