পাবনা জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আরশেদ আলমের বিরুদ্ধে ফেসবুকে মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুজানগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন শেখের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অ্যাডভোকেট আরশেদ আলম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, সুজানগর উপজেলার ভবানীপুর মৌজার একটি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শাহজাহান আলী শেখ, মোতাহার আলী খান ও তাঁদের দুই ছেলে বাদী হয়ে সুজানগর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে গোলাম আলী শেখ ও তাঁর ছেলে সুজানগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন শেখসহ অন্যদের বিরুদ্ধে একটি বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন।
মামলা চলাকালে এক নম্বর বাদী শাহজাহান আলী শেখ তাঁর কেনা জমির অংশ থেকে ০.০৮ একর জমি উপযুক্ত দাম পেয়ে মামলার পাঁচ নম্বর বাদী আরশেদ আলমের কাছে বিক্রি করেন। এরপর থেকে তিনি মামলার পক্ষভুক্ত হয়ে বাদী হন। মামলাটি এখনো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
আরশেদ আলমের অভিযোগ, এমন পরিস্থিতিতে সুজানগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন শেখ রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে বাটোয়ারা মামলা প্রত্যাহারের জন্য অন্য বাদীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। এতে সফল না হয়ে মামলার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ৩০ অক্টোবর সকালে জাকির শেখ তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে আরশেদ আলমের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, কুরুচিপূর্ণ ও বানোয়াট মন্তব্য প্রকাশ করেন। এতে তাঁর সামাজিক মর্যাদা, সম্মান ও সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। পেশাগত সম্মান ও সামাজিক অবস্থান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় ৩০ অক্টোবর পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরশেদ আলম বলেন, ১৯৮৩ সাল থেকে ১৫ বছর সুজানগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে জেলা বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সহসম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, পাবনা জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৮৩ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে পাবনা বার সমিতিতে যোগ দেন। এরপর থেকে সুনামের সঙ্গে বিচারপ্রার্থীদের আইনি সহায়তা দিয়ে আসছেন। এ পর্যন্ত কেউ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ তুলতে পারেননি। কিন্তু সুজানগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন শেখ বিচারাধীন মামলার বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কাছে জাকির হোসেন শেখের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুজানগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন শেখ বলেন, জমি নিয়ে মামলাটি ২৮-২৯ বছর ধরে চলছে। মামলার অন্য বাদীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরশেদ আলম জমির বিষয়ে তাঁদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি তাঁদের আইনজীবীকে সাক্ষ্যগ্রহণের দিনে আদালতে না দাঁড়ানোর জন্য নানাভাবে হুমকি দেন। পরে বাধ্য হয়ে তিনি ফেসবুকে কিছু কথা লিখেছেন। তাঁর দাবি, যা লিখেছেন, সবই সত্য; একটিও মিথ্যা নয়।
জাকির হোসেন শেখ আরও বলেন, আরশেদ আলম সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তিনিও সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরবেন। তাঁর বক্তব্যের একটিও মিথ্যা প্রমাণিত হলে আইন ও দল যে শাস্তি দেবে, তা তিনি মেনে নেবেন।