শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৯ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৭:৩৯:২৭
শিরোনাম
● তেজগাঁও কলেজে এক বছরে পাসের হার কমেছে ১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন মাত্র একজন ● দুই হাতে আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে সাফল্য ● সাজেকে দু’পক্ষের তীব্র গোলাগুলি, আতঙ্কে স্থানীয়রা ● নতুন হামলা হলে প্রতিক্রিয়া কেমন হবে জানালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ● এবার ইরানে হামলার তারিখ স্পষ্ট করল যুক্তরাষ্ট্র ● ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোম্পানিতে যেভাবে পরিণত হলো আম্বানির জিও ● নেতানিয়াহুর সামনে আর সরকার গঠনের সুযোগ নেই: লাপিদ ● চাঁদে আধিপত্যের লড়াই, পরমাণু বিদ্যুতে ঝুঁকছে তিন পরাশক্তি ● ‘ইরানকে এতটাই শক্তিশালী হতে হবে, যাতে শত্রুরা তাকানোর সাহস না পায়’ ● এইচএসসিতে জিপিএ-৫: সবার শীর্ষে নটর ডেম কলেজ ● তেজগাঁও কলেজে এক বছরে পাসের হার কমেছে ১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন মাত্র একজন ● দুই হাতে আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে সাফল্য ● সাজেকে দু’পক্ষের তীব্র গোলাগুলি, আতঙ্কে স্থানীয়রা ● নতুন হামলা হলে প্রতিক্রিয়া কেমন হবে জানালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ● এবার ইরানে হামলার তারিখ স্পষ্ট করল যুক্তরাষ্ট্র ● ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোম্পানিতে যেভাবে পরিণত হলো আম্বানির জিও ● নেতানিয়াহুর সামনে আর সরকার গঠনের সুযোগ নেই: লাপিদ ● চাঁদে আধিপত্যের লড়াই, পরমাণু বিদ্যুতে ঝুঁকছে তিন পরাশক্তি ● ‘ইরানকে এতটাই শক্তিশালী হতে হবে, যাতে শত্রুরা তাকানোর সাহস না পায়’ ● এইচএসসিতে জিপিএ-৫: সবার শীর্ষে নটর ডেম কলেজ

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দেওয়া আফিয়া মাসুমা পেল এ গ্রেড

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি
মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৭
শেয়ার: mail
বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দেওয়া আফিয়া মাসুমা পেল এ গ্রেড

এইচএসসি পরীক্ষায় যখন ফেলের সংখ্যা বেশি, তখন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় বসা বেনাপোলের আফিয়া মাসুমা এ গ্রেড পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। শোককে শক্তিতে পরিণত করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মাসুমার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, আফিয়া মাসুমা এ গ্রেড পেয়েছেন।

যশোরের শার্শা উপজেলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন মাসুমা। তিনি বেনাপোল পোর্ট থানার নামাজগ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছোট মেয়ে। মাসুমার বাবা আব্দুস সামাদ (৬৫) ছিলেন বেনাপোলের মেসার্স তাজমহল ট্রান্সপোর্ট ও হাজী মুছা করিম অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী। তিনি একজন বিশিষ্ট আমদানিকারকও ছিলেন।

পরিবার ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই সন্ধ্যার দিকে বাড়িতে স্ট্রোকজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তাঁর বাবা। রাতেই তাঁর মরদেহ বাসায় আনা হয়। শোকে বিহ্বল স্বজনেরা লাশ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন অবস্থায় বাবার লাশ বাড়িতে রেখে ওই বছরের জুলাই মাসে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন আফিয়া মাসুমা। তাঁর কেন্দ্র ছিল বেনাপোল কলেজে। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে বাবার লাশ দাফনে অংশ নেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর মাসুমা ভেঙে পড়লেও স্বজনদের কথায় পরীক্ষার কেন্দ্রে যান। তাঁর পরীক্ষার কারণে মরদেহ দাফনের সময়ও বাড়ানো হয়। তাঁকে না দেখিয়ে যেন দাফন করা না হয়, সে কথাও বলে যান তিনি। বাবা হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করেন মাসুমা।

পিতার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষার হলে বসা এবং পরে কৃতকার্য হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জীবনে ঘটা অত্যন্ত বাস্তব ও হৃদয়বিদারক একটি চিত্র। স্বজন হারানোর চরম শোক বুকে চেপে যখন কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে হাজির হন, তখন তা শিক্ষার প্রতি তাঁর অদম্য একাগ্রতা ও মানসিক দৃঢ়তার অনুপম দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়। বেনাপোলের আফিয়া মাসুমা সেই দৃষ্টান্ত রাখলেন।

ফলাফলের পর প্রতিক্রিয়ায় মাসুমা জানান, বাবা সব সময় চাইতেন তিনি ভালো ফল করুন। পরীক্ষার সময় বাবাকে হারানো তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত ছিল। কিন্তু বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা ভেবেই নিজেকে সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি আরও ভালো ফল করতে পারতেন বলে মনে করেন। পরীক্ষা লিখতে গিয়ে বারবার মৃত বাবার মুখ ভেসে আসছিল। বাবা বেঁচে থাকলে এ ফল দেখে খুবই খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে যেন সবার মুখ উজ্জ্বল করতে পারেন, সে জন্যও দোয়া চেয়েছেন।

শার্শা উপজেলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাসানউজ্জামান জানান, মাসুমা শুরু থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। সে ভালো ফল করবে, এটা শিক্ষকেরা প্রত্যাশা করতেন। পরীক্ষা চলাকালে বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিয়ে সে কলেজের সম্মান আরও উজ্জ্বল করেছে। ব্যক্তিগত জীবনের এত বড় শোককে জয় করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং এ গ্রেড অর্জন করা তার অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার পরিচয়। তার ফলাফলে সবাই খুশি। বাবার মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলে সে জিপিএ-৫ পেত। কলেজের শিক্ষকদের প্রত্যাশা, মাসুমা ভবিষ্যতেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখবে।

শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাবাকে হারানো যে কারও জন্য খুবই কষ্টদায়ক। তারপরও এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাসুমা বাবা হারানোর কষ্ট নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফল করেছেন, এটি খুবই খুশির সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এই মেধাবীর পাশে থাকবে। তাঁর পরিবার উচ্চশিক্ষার বিষয়ে সহযোগিতা চাইলে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দেওয়া আফিয়া মাসুমা পেল এ গ্রেড

বিস্তারিত কমেন্টে