শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৯ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৭:৪০:১০
শিরোনাম
● তেজগাঁও কলেজে এক বছরে পাসের হার কমেছে ১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন মাত্র একজন ● দুই হাতে আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে সাফল্য ● সাজেকে দু’পক্ষের তীব্র গোলাগুলি, আতঙ্কে স্থানীয়রা ● নতুন হামলা হলে প্রতিক্রিয়া কেমন হবে জানালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ● এবার ইরানে হামলার তারিখ স্পষ্ট করল যুক্তরাষ্ট্র ● ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোম্পানিতে যেভাবে পরিণত হলো আম্বানির জিও ● নেতানিয়াহুর সামনে আর সরকার গঠনের সুযোগ নেই: লাপিদ ● চাঁদে আধিপত্যের লড়াই, পরমাণু বিদ্যুতে ঝুঁকছে তিন পরাশক্তি ● ‘ইরানকে এতটাই শক্তিশালী হতে হবে, যাতে শত্রুরা তাকানোর সাহস না পায়’ ● এইচএসসিতে জিপিএ-৫: সবার শীর্ষে নটর ডেম কলেজ ● তেজগাঁও কলেজে এক বছরে পাসের হার কমেছে ১২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেলেন মাত্র একজন ● দুই হাতে আঙুল নেই, পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতে সাফল্য ● সাজেকে দু’পক্ষের তীব্র গোলাগুলি, আতঙ্কে স্থানীয়রা ● নতুন হামলা হলে প্রতিক্রিয়া কেমন হবে জানালেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ● এবার ইরানে হামলার তারিখ স্পষ্ট করল যুক্তরাষ্ট্র ● ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোম্পানিতে যেভাবে পরিণত হলো আম্বানির জিও ● নেতানিয়াহুর সামনে আর সরকার গঠনের সুযোগ নেই: লাপিদ ● চাঁদে আধিপত্যের লড়াই, পরমাণু বিদ্যুতে ঝুঁকছে তিন পরাশক্তি ● ‘ইরানকে এতটাই শক্তিশালী হতে হবে, যাতে শত্রুরা তাকানোর সাহস না পায়’ ● এইচএসসিতে জিপিএ-৫: সবার শীর্ষে নটর ডেম কলেজ

চাঁদে আধিপত্যের লড়াই, পরমাণু বিদ্যুতে ঝুঁকছে তিন পরাশক্তি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪১
শেয়ার: mail
চাঁদে আধিপত্যের লড়াই, পরমাণু বিদ্যুতে ঝুঁকছে তিন পরাশক্তি

পৃথিবীর সীমানা পেরিয়ে এবার চাঁদের বুকে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিশ্বের তিন পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। লক্ষ্য শুধু চাঁদে নভোচারী পাঠানো নয়, বরং সেখানে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ, বরফ থেকে পানি ও রকেটের জ্বালানি উৎপাদন এবং মূল্যবান খনিজ সম্পদ আহরণ। আর এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে সামনে এসেছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। চাঁদের প্রতিকূল পরিবেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিন দেশই এখন ক্ষুদ্র পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। ফলে নতুন এক মহাকাশ প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে চাঁদের পারমাণবিক শক্তি।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, চাঁদের মেরু অঞ্চলের কিছু গভীর খাদ ও গর্তে কোটি কোটি বছর ধরে সূর্যের আলো পৌঁছায়নি। এসব চির-অন্ধকার অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানির বরফ জমা থাকতে পারে। এই বরফ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে ভবিষ্যতে চাঁদে অবস্থানরত নভোচারীদের পানীয় জল, শ্বাস-প্রশ্বাসের অক্সিজেন এবং রকেটের জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।

পাশাপাশি চাঁদের মাটিতে থাকা অ্যালুমিনিয়াম, টাইটানিয়াম ও সিলিকনের মতো উপাদান আহরণের সম্ভাবনাও মহাকাশ গবেষকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে মহাকাশে অবকাঠামো ও স্যাটেলাইট তৈরিতে এসব সম্পদ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি বসতি কিংবা বড় পরিসরে খননকাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন বিপুল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। কিন্তু সেখানে সৌরবিদ্যুতের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা কঠিন। কারণ চাঁদের এক দিন ও এক রাতের স্থায়িত্ব প্রায় ১৪ পৃথিবী দিনের সমান। ফলে দীর্ঘ অন্ধকার সময়ে সৌর প্যানেল বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে না।

এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে পারমাণবিক চুল্লিকে কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন বিজ্ঞানীরা। এ ধরনের চুল্লি সূর্যের আলো ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। ফলে চাঁদের ঘাঁটি, বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার ও খননযন্ত্র চালানোর ক্ষেত্রে পারমাণবিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। লুনার রিয়্যাক্টর-১ (এলআর-১) নামের এই প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় ওয়াশিংটন।

প্রকাশিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুল্লিটির ওজন ছয় হাজার কেজির কম এবং এটি পাঁচ বছর পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে। তবে এর নকশা ও সক্ষমতা নিয়ে কাজ এখনো চলমান। নাসার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি চাঁদে ২০৩০-এর দশকের শুরুতে ৪০ কিলোওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎব্যবস্থা চালুর প্রযুক্তিও উন্নয়ন করছে।

অন্যদিকে চাঁদে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে যৌথভাবে কাজ করছে চীন ও রাশিয়া। তাদের পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা কেন্দ্রের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিদ্যুৎব্যবস্থাটি ১০ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। এর ওজন প্রায় ১ হাজার ২০০ কেজি এবং রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই ১০ বছরের বেশি সময় সচল রাখার লক্ষ্য রয়েছে। ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমস।

চাঁদের সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনায় বেসরকারি মহাকাশ খাতের উদ্যোক্তারাও যুক্ত হচ্ছেন। ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের পরিকল্পনায় চাঁদের মাটি থেকে পাওয়া সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করে স্যাটেলাইট তৈরির কারখানা স্থাপনের ধারণা রয়েছে।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পৃথিবী থেকে সব উপকরণ বহন করে নেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে। চাঁদের মাটিতে থাকা খনিজ প্রক্রিয়াজাত করে মহাকাশেই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও অবকাঠামো তৈরি করা সম্ভব হবে। তবে এ ধরনের শিল্পকারখানা স্থাপন এখনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে।

চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনার সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পৃথিবী থেকে রকেটে করে চুল্লি পরিবহনের সময় দুর্ঘটনা ঘটলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ১৯৭৮ সালের একটি ঘটনা প্রায়ই উদাহরণ হিসেবে সামনে আসে। ওই বছর সোভিয়েত ইউনিয়নের পারমাণবিক শক্তিচালিত কসমস-৯৫৪ নামের একটি নজরদারি স্যাটেলাইট কানাডার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। এতে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে তেজস্ক্রিয় ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যৌথভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালায়।

চাঁদের ক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি মোকাবিলায় উৎক্ষেপণ, পরিবহন ও অবতরণের প্রতিটি পর্যায়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রয়োজন হবে। চুল্লি নিরাপদে স্থাপন ও চালু করার বিষয়টিও বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।

পারমাণবিক ঘাঁটি নির্মাণের প্রতিযোগিতার পেছনে শুধু বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ নয়, রয়েছে কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়টিও। চাঁদের দক্ষিণ মেরুর মতো বরফসমৃদ্ধ অঞ্চল ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদের কোনো অংশের ওপর সার্বভৌম মালিকানা দাবি করতে পারে না। ১৯৬৭ সালের জাতিসংঘের আউটার স্পেস ট্রিটি অনুযায়ী, দখল বা ব্যবহারের মাধ্যমে চাঁদের কোনো অঞ্চলকে জাতীয় ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে মহাকাশ ও চন্দ্রপৃষ্ঠে ক্ষতিকর দূষণ এড়ানোর বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

তবে কোনো দেশ সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে আশপাশের এলাকায় নিজেদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে অন্য দেশের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বরফ ও খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চল ব্যবহারের অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে নতুন আইনি ও কূটনৈতিক বিতর্ক দেখা দিতে পারে।

সব মিলিয়ে চাঁদের বুকে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ মহাকাশ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইনের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।

সূত্র: আল জাজিরা

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

চাঁদে আধিপত্যের লড়াই, পরমাণু বিদ্যুতে ঝুঁকছে তিন পরাশক্তি

বিস্তারিত কমেন্টে