বাংলাদেশ ০৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংসের হুমকি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

ইরানের তেহরানের পশ্চিমে কারাজে নবনির্মিত সেতু গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মার্কিন বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয়। ছবি: এপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন। এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে লাখো কোটি টাকার অবকাঠামো ও জনজীবন বিপন্ন হতে পারে। তেহরান সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান। প্রণালীটি দেশের নৌবাহিনীর ‘দৃঢ় ও কর্তৃত্বপূর্ণ’ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শত্রুদের জন্য বন্ধ থাকবে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ইরানকে একের পর এক ডেডলাইন দিয়েছেন। সবশেষ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৮টা পর্যন্ত তেহরানকে চুক্তি না মানলে কঠোর সামরিক পরিণতির হুমকি দেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা রয়েছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করার। তিনি বলেন, ‘পূর্ণ ধ্বংস… রাত ১২টার মধ্যে শেষ করা সম্ভব… আমরা চাইলে চার ঘণ্টার মধ্যেই করতে পারি।’ হামলার লক্ষ্য হতে পারে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র।

ইরানের সেতু ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী দেশটিতে প্রায় তিন লাখ সেতু রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোর মধ্যে পারস্য উপসাগর সেতু, উর্মিয়া লেক সেতু, সাদ্র মাল্টিলেভেল এক্সপ্রেসওয়ে সেতু, কারুন-৪ আর্ক সেতু এবং গাদির কেবল-স্টেড সেতু উল্লেখযোগ্য। এসব ধ্বংস হলে নগর ও প্রাদেশিক যোগাযোগ ব্যাহত হবে, অর্থনৈতিক ক্ষতি, জনজীবনের ঝুঁকি এবং পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে।

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে নিষিদ্ধ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতা আন্তনিও কস্তা। তিনি বলেন, ‘বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা অবৈধ এবং গ্রহণযোগ্য নয়।’

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক উল্লেখ করেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর স্পষ্টভাবে হামলা করা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অনুমোদিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে এই হুমকি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ দেখা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের মানসিক স্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, তবে রিপাবলিকানরা তার অবস্থান সমর্থন করছে। সিনেটররা মন্তব্য করেছেন, বেসামরিক নাগরিক লক্ষ্যবস্তু হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংসের হুমকি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

প্রকাশিত: ১১:৫৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন। এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে লাখো কোটি টাকার অবকাঠামো ও জনজীবন বিপন্ন হতে পারে। তেহরান সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান। প্রণালীটি দেশের নৌবাহিনীর ‘দৃঢ় ও কর্তৃত্বপূর্ণ’ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শত্রুদের জন্য বন্ধ থাকবে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ইরানকে একের পর এক ডেডলাইন দিয়েছেন। সবশেষ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ৮টা পর্যন্ত তেহরানকে চুক্তি না মানলে কঠোর সামরিক পরিণতির হুমকি দেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা রয়েছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করার। তিনি বলেন, ‘পূর্ণ ধ্বংস… রাত ১২টার মধ্যে শেষ করা সম্ভব… আমরা চাইলে চার ঘণ্টার মধ্যেই করতে পারি।’ হামলার লক্ষ্য হতে পারে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র।

ইরানের সেতু ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী দেশটিতে প্রায় তিন লাখ সেতু রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোর মধ্যে পারস্য উপসাগর সেতু, উর্মিয়া লেক সেতু, সাদ্র মাল্টিলেভেল এক্সপ্রেসওয়ে সেতু, কারুন-৪ আর্ক সেতু এবং গাদির কেবল-স্টেড সেতু উল্লেখযোগ্য। এসব ধ্বংস হলে নগর ও প্রাদেশিক যোগাযোগ ব্যাহত হবে, অর্থনৈতিক ক্ষতি, জনজীবনের ঝুঁকি এবং পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে।

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে নিষিদ্ধ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতা আন্তনিও কস্তা। তিনি বলেন, ‘বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা অবৈধ এবং গ্রহণযোগ্য নয়।’

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক উল্লেখ করেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর স্পষ্টভাবে হামলা করা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অনুমোদিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে এই হুমকি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ দেখা দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের মানসিক স্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, তবে রিপাবলিকানরা তার অবস্থান সমর্থন করছে। সিনেটররা মন্তব্য করেছেন, বেসামরিক নাগরিক লক্ষ্যবস্তু হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

kalprakash.com/SS