নওগাঁর মহাদেবপুরে সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রেসক্লাবে এসে এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছেন কৃষক দলের এক নেতা।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা সদরের বকের মোড়ের চেয়ারম্যান মার্কেটে এ হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক দৈনিক যায়যায়দিনের বরেন্দ্র অঞ্চল প্রতিনিধি ইউসুফ আলী সুমন অভিযোগ করেন, গত বছর ২৯ নভেম্বর বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে এবং পরদিন বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিকে মহাদেবপুরে মাদ্রাসার সভাপতির স্ত্রীকে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, আট লাখ টাকার অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে উপজেলার উত্তরগ্রাম হাটখোলা দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি শহীদুল ইসলাম পলাশের স্ত্রী স্বপ্না খানমকে ওই মাদ্রাসার আয়া পদে নিয়োগ দেওয়ার সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তখন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা বাকি ছিল।
৩০ নভেম্বর মাদ্রাসায় নিয়োগ বোর্ড বসলে ওই সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়দের দাবির মুখে কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা করে। কিন্তু ইউনিয়ন কৃষক দলের কয়েকজন নেতাকর্মী এ সময় নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে মব সৃষ্টি করে মাদ্রাসায় হামলা চালায়। এ খবরও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হয়।
সম্প্রতি ওই পদে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলে কৃষক দলের ওই নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। এরই জেরে উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি গোলাম মাওলা বিষু শনিবার দুপুরে মহাদেবপুর বকের মোড়ে চেয়ারম্যান মার্কেটে অবস্থিত মহাদেবপুর মডেল প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে এসে সাংবাদিক ইউসুফ আলী সুমনকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন এবং তাকে প্রকাশ্যে মেরে ফেলার ও চিবিয়ে খেয়ে ফেলার হুমকি দেন।
সুমন এর প্রতিবাদ করলে বিষু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিয়োগটি না হওয়ায় তারা আট লাখ টাকা নিতে পারেননি এবং এর চরম প্রতিশোধ নেওয়া হবে। একপর্যায়ে সেখানে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে বিষু আবারও হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান।
বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে জেলা ও বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা অবিলম্বে হুমকিদাতাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
স্থানীয় সাংবাদিকেরা সঙ্গে সঙ্গে স্বশরীরে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুককে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। উপজেলা কৃষক দলের নেতারাও মোবাইলফোনে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি গোলাম মাওলা বিষু মোবাইলফোনে দাবি করেন, তিনি কোনো হুমকি দেননি।
নওগাঁ প্রতিনিধি 




















