হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে অসুস্থ শিশুর জ্বর মাপতে থার্মোমিটার চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজনের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ওই স্বজনের দাবি, শিশুটিকে পরীক্ষা না করেই ওষুধ লিখে দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরে শিশুটির জ্বর কত ডিগ্রি তা জানতে থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মাপার অনুরোধ করলে চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযোগকারী স্বজনের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে জ্বর মাপার জন্য থার্মোমিটার না পেয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরিবর্তে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে জ্বর মাপাতে হলে মন্ত্রীকে ডেকে আনতে হবে বলেও মন্তব্য করেন ওই চিকিৎসক—এমন অভিযোগ করেছেন শিশুটির স্বজন।
ঘটনাটি নিয়ে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান ও রোগী-স্বজনের সঙ্গে চিকিৎসকদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে একটি জেলা সদর হাসপাতালে রোগীর শরীরের তাপমাত্রা মাপার মতো মৌলিক সরঞ্জাম না থাকা এবং এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বজনকে হয়রানি বা অপমানের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ আগস্ট হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ওই পরিদর্শনে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং রোগী ও স্বজনদের নানা অভিযোগ শোনেন। দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় এক ফার্মাসিস্টকে বদলির নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল তখন।
এদিকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসক ও জনবলসংকটের বিষয়টিও বিভিন্ন সময়ে সংবাদে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ৭৬টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ৫৬টি শূন্য থাকার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে শিশুটির চিকিৎসার ঘটনা এবং চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে তারা যেন ন্যূনতম সম্মান ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
kalprakash.com/IM