শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাস অর্জনের লক্ষ্যে বাগেরহাটের ত্রীপল্লি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও সুধীজনদের নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে একাগ্রতা, শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, পারিবারিক শিক্ষার গুরুত্ব এবং সন্তানদের প্রতিদিনের কার্যক্রমের ওপর অভিভাবকদের সার্বক্ষণিক নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভালো ফলাফল কেবল শিক্ষকদের একক প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করে না। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও মানসম্মত ফলাফল নিশ্চিত করা সম্ভব।
অভিভাবক সাইফুল সর্দার বলেন, প্রত্যেক অভিভাবকের উচিত নিয়মিত বিদ্যালয়ে এসে সন্তানের পড়াশোনার খোঁজখবর নেওয়া। সন্তান নিয়মিত ক্লাসে যাচ্ছে কি না এবং কোনো অসৎ সঙ্গের সঙ্গে জড়াচ্ছে কি না, সে বিষয়ে পরিবারকে সচেতন থাকতে হবে। অতীতে এ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রশংসনীয় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কেন প্রত্যাশানুযায়ী হচ্ছে না, তা চিহ্নিত করে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আরেক অভিভাবক মো. ওবাইদুল শেখ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সন্তানদের পারিবারিক মূল্যবোধ, শিষ্টাচার, নৈতিকতা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করার শিক্ষা পরিবার থেকেই দিতে হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিখিল হাজরা বলেন, ত্রীপল্লি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো ঐতিহ্য ও সুনাম ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটিকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাদক, খারাপ সঙ্গ ও কিশোর অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তুহিন মোল্লা বলেন, কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত অনুপস্থিত থাকলে কিংবা আচরণগত সমস্যায় জড়ালে সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবককে বিদ্যালয়ে ডেকে জানাতে হবে। বারবার ডাকার পরও অভিভাবক সাড়া না দিলে কিংবা শিক্ষার্থীর আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন না এলে বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. শিপন মুন্সী সমাপনী বক্তব্যে বলেন, একসময় এ বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট উপজেলায় ফলাফলের দিক থেকে শীর্ষস্থানে ছিল। সেই ধারাবাহিকতা ও হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
তিনি ঘোষণা দেন, সামনে প্রি-টেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে কোনো শিক্ষার্থীকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ালে এবং অভিভাবক দায়িত্বশীল আচরণ না করলে বিধি অনুযায়ী তাকে বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে একই সঙ্গে তিনি শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে পাঠে মনোযোগী করে তোলার আহ্বান জানান।
বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক কামরুজ্জামান খান পিকলুর সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. শিপলু শেখ, স্থানীয় সমাজসেবক বেল্লাল খান, এনামুল শেখসহ অভিভাবক ও শিক্ষকমণ্ডলী।
kalprakash.com/IM