২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামি হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার সাতজন আসামিই শুরু থেকে পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ৪ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলে, যেখানে প্রসিকিউশন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করেছিল।
প্রসিকিউশনের আনীত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে সরাসরি নির্দেশ, প্ররোচনা এবং উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে সশস্ত্র হামলা ও দমন-পীড়ন চালানোর পাশাপাশি একাধিক গোপন বৈঠকে প্রাণঘাতী সহিংসতার নীল নকশা প্রণয়ন করেন তারা। এছাড়া গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং মুক্ত তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতেও ভূমিকা রাখেন আসামিরা। এসব সুপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের জেরেই দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, হত্যাচেষ্টা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়, যা আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
kalprakash.com/IM